গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, সিউকের যাত্রায় সিলেট একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে ওঠবে। এখন থেকে সিলেটের উন্নয়ন হবে সুদূরপ্রসারী ও টেকসই মাস্টার প্ল্যানের অধীনে। জলাশয় ও পাহাড় রক্ষা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পরিকল্পিত নগরায়নই সিউকের মূল অগ্রাধিকার হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ২টায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন শেষে আযোজিত সুধী সমাবেশে উদ্বোধকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের কোনো শহরই পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠেনি বরং এই সময়ে গৃহীত অনেক মেগা প্রকল্পের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল, যেগুলোর প্রকৃত কোনো প্রয়োজনই ছিল না। আবার অনেক প্রকল্প শেষও করা হয়নি। শুধু জনগণের অর্থের অপচয়ই হয়েছে।
বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ন হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ শহরমুখী হওয়ায় সীমিত জমির বিপরীতে আবাসন চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একদিকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিজমি রক্ষা, অন্যদিকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি পরিকল্পিত, নিরাপদ ও টেকসই শহর গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
গৃহায়নমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি সিটি করপোরেশনের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
সিউকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, কোনো নাগরিক যেন তার কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ বা আবাসন গড়ে তোলার সুযোগ যেন আর না থাকে।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, এম এ মালিক ও এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।



