দেশে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বেড়েছে। টিভি, কম্পিউটার, রাউটার, ফ্রিজসহ বিভিন্ন যন্ত্র বজ্রপাতের সময় হঠাৎ অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা পাওয়ার সার্জের কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বজ্রপাত না হলেও বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে আসা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রবাহ ডিভাইসের সংবেদনশীল সার্কিট পুড়িয়ে দিতে পারে। তবে কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে এই ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

বজ্রপাতের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা। শুধু সুইচ বন্ধ রাখলেই যথেষ্ট নয়, বরং টিভি, কম্পিউটার, রাউটারসহ সব ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্লাগ খুলে রাখা উচিত। কারণ বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ লাইনে হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ প্রবাহিত হয়ে সরাসরি ডিভাইসে পৌঁছে সেটিকে নষ্ট করে দিতে পারে।

শুধু বিদ্যুৎ লাইন নয়, ইন্টারনেট ও ক্যাবল সংযোগও ঝুঁকিপূর্ণ। রাউটার বন্ধ করলেই অনেকেই নিরাপদ ভাবেন, কিন্তু ব্রডব্যান্ড লাইন বা ডিশ ক্যাবলের মাধ্যমেও বজ্রপাতের প্রভাব ডিভাইসে পৌঁছাতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় রাউটার বন্ধ করার পাশাপাশি ল্যান বা ফাইবার ক্যাবলসহ সব সংযোগ খুলে রাখা আরও নিরাপদ।

চার্জিং অবস্থায় থাকা ডিভাইসগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ চার্জে রেখে ব্যবহার করলে হঠাৎ ভোল্টেজ বৃদ্ধি সরাসরি ব্যাটারি ও সার্কিটে আঘাত করতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় এসব ডিভাইস চার্জে না রাখা এবং চার্জার খুলে রাখা জরুরি।

দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষার জন্য সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার কার্যকর একটি উপায়। এটি অতিরিক্ত ভোল্টেজ শোষণ করে ডিভাইসকে নিরাপদ রাখে। পাশাপাশি বাসার বৈদ্যুতিক লাইনে ভালো আর্থিং থাকা গুরুত্বপূর্ণ, যা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ মাটিতে নামিয়ে দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

রাউটার ও মডেমের ক্ষেত্রে আলাদা সতর্কতা প্রয়োজন। বজ্রপাতের সময় এগুলো বন্ধ রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ ও ডেটা ক্যাবল খুলে রাখা উচিত। কারণ এই ডিভাইসগুলো সরাসরি বাইরের লাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ঝুঁকি বেশি থাকে।

বজ্রপাতের সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলাও জরুরি। যেমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা, মোবাইল চার্জে রেখে কথা বলা, শুধু সুইচ বন্ধ রেখে প্লাগ লাগানো রাখা কিংবা ভেজা হাতে ডিভাইস স্পর্শ করা—এসব কাজ ঝুঁকি বাড়ায়।

দীর্ঘমেয়াদে আরও সুরক্ষার জন্য বড় ভবনে বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো সরাসরি বজ্রপাত বা ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে ডিভাইসকে সুরক্ষা দেয়।

বজ্রপাত শেষ হওয়ার পরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে ডিভাইস চালু করা উচিত এবং কোনো অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *