মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট বদলে যাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে তিমিদের জন্য নতুন হুমকি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, লোহিত সাগরে হুতি হামলা ও হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে অনেক জাহাজ এখন সুয়েজ খাল এড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চলাচল করছে। এতে ওই অঞ্চলে জাহাজের চাপ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পোর্টওয়াচ মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ঘিরে ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। ২০২৩ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪৪।

গবেষকেরা বলছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তিমি আবাসস্থলগুলোর একটি। এখানে সাউদার্ন রাইট, হাম্পব্যাক, ব্রাইডস, ব্লু ও স্পার্ম হোয়েলসহ ৪০টির বেশি প্রজাতির তিমি দেখা যায়। শুধু হাম্পব্যাক তিমিই রয়েছে প্রায় ১১ থেকে ১৩ হাজার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুতগতির বড় জাহাজের ধাক্কায় তিমির মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে গেছে। ইউনিভার্সিটি অব প্রিটোরিয়ার গবেষক এলস ভারমেউলেন বলেন, অনেক সময় খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত থাকায় তিমিরা জাহাজের উপস্থিতি বুঝতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও দেখে তাঁর আশঙ্কা, একাধিক তিমি জাহাজের ধাক্কায় আহত বা নিহত হচ্ছে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ উপকূলে অন্তত ১১টি তিমির মৃত্যু সরাসরি জাহাজের ধাক্কায় হয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা গবেষকদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজের গতি কমানো ও রুট কিছুটা পরিবর্তন করা গেলে তিমির সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। ইতিমধ্যে কয়েকটি আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি তিমি সুরক্ষায় বিকল্প রুট ব্যবহার শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *