মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিম পাশা ইউনিয়নের ইটাহরি গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এলাকার কৃষি ক্ষেত বিনষ্ট হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ থেকে জানাযায়, মুরইচড়া সড়ক হতে টিলাগাও সড়কের পাশে ইটাহরি গ্রামের সৈয়দ আব্দুল গফফার লাল মিয়া (৭০) নিজের বসত বাড়ির পাকা দেওয়াল সরকারি সড়কের পাশে তৈরী করে গেইট নির্মান করেছেন যার ফলে সড়কের পাশে যে এলাকার পানি নিষ্কাশনের যে খাল ছিল সেটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে পাশে বড় ফিসারী, কৃষি ক্ষেত, সবজি ক্ষেত অনেক বৃক্ষ সহ পানির নিছে তলিয়ে থাকে। যার ফলে এলাকার কৃষকরা জলাবদ্ধতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।এলাকাবাসী ইউনিয়ন পরিষদ, কুলাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি বরার অভিযোগ পত্র দেন।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, ইটাহরি গ্রামের সৈয়দ আবুল গফফার লালের বাড়ির রাস্তার পাশে পাকা দেওয়াল দেওয়ার কারনে এবং পানি যাওয়ার খাল বন্ধ করায় নখন্ডি দিঘির পাশে অনেক কৃষি যায়গা, ফিসারি আটকে থাকা পানিতে ডুবে আছে।আটকে থাকা পানি প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট উপরে পানি রয়েছে।প্রতিদিন টানা বৃষ্টি কারনে এখানে পানি আটকে জলাবদ্ধতায় পরিনত হয়েছে।নষ্ট হচ্ছে সবজি ক্ষেত, ধান ক্ষেত, বৃক্ষ ও ফিসারির মাছ। এলাকার আটকে থাকা দীর্ঘদিনধরে এই খাল দিয়ে পানি সামনে থামেশ্বরী নদীতে গিয়ে পরে। প্রায় একশত ফুট সামনে বাড়ির পাশে রয়েছে থামেশ্বরী নদী (তামা গাং).স্থানীয় ইটাহরি গ্রামের পানি গুলো এই নদীতে গিয়ে পরে। কিন্তু পানি যাওয়ার খালের একটি অংশ বন্ধ করে দেওয়ায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় গ্রামবাসী সৈয়দ আব্দুল মুতালিব(৭০),আব্দুল শহিদ (৪৫),মো: মনু মিয়া (৫৬),পিয়ারুন বেগম(৩৬),গোলাম ইজামী চৌধুরী (৬৫),আসাদুর রহমান(৪০),সৈয়দ মুহিন(৩৫),সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এই যায়গার পানি গুলো দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে খাল দিয়ে পানি যায় ওই পানি গুলো সামনে থামেশ্বরী নদীতে গিয়ে পরে কিন্তু সৈয়দ আবুল গফফার লাল মিয়া তিনি অবৈধ ভাবে বাড়ির পাকা দেওয়ায় সড়কের একদম পাশে নির্মান করে পানি যাওয়ার খাল বন্ধ করে দেওয়ায় এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী দেওয়াল তৈরি করার সময় তাহাকে বার বার বলার পরও তিনি ইচ্ছেকৃত ভাবে এই দেওয়াল তৈরি করে আমাদের কৃষি জমিনের পানি আটকে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছেন যার ফলে আমরা অনেক কষ্টে আছি আমাদের ফসল আর ফিসারির মাছ নষ্ট হচ্ছে এতে আমরা অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল হয়ে পরেছি।

অভিযুক্তকারী সৈয়দ আব্দুল গফফার লাল (৭০) তাহার ছেলে সৈয়দ আবুল খালিক (৩৬) বলেন,আমরা ইচ্ছা করে পানি যাওয়ার খাল বন্ধ করি নাই,আমার বাবা বাড়ির দেওয়াল দিলেও আমরা দেওয়ালের বিতরে পানি যাওয়ার জন্য একটি ড্রেন রেখেছি। কিন্তু নখন্ডি মাটের পাশে আমার কিছু জমি রয়েছে ওই জমির খাল বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা এই খাল বন্ধ করেছি।আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, আমরাও চাই এই সঠিক একটি সমাধান হোক।

জলাবদ্ধতা নিয়ে পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী সাথে কথা বললে তিনি বলেন,ইটাহরি গ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে । পানি যাওয়ার খাল বন্ধ থাকার কারনে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে আমি উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: আনিসুল ইসলাম বলেন, ইটাহরি গ্রামের জলাবদ্ধতার বিষয় আমি অবগত রয়েছি। ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *