এই মুহুর্তে সারা বিশ্বের সিলেট প্রবাসীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু শাহজালাল মাজারের কতৃত্ব।। গত বছর মিশিগানে দেখা হয়েছিল জনাব লোকমান কোরেশীর সাথে৷ প্রবীন কোরেশী বলেছিলেন দরগার ভাগ বাটেয়ারার ইতিহাস।। ২৪ বছর দরগার মাজারের ম্যানেজার ছিলেন। দীর্ঘদিন দরগার মাজারের দেখাশুনা করেছেন।
উনাকে সবাই চিনেন।।
তিনি নিজেও একজন মাজার পরিবার সদস্য এবং অনেকের অংশের টাকা তুলতেন।। ৩৬৫ দিনে বছর, তাই হাতে গোনা কয়েকজন অন্য পরিবারগুলোর টাকা তদারকি করতেন।।
এটাকে বারী বলে। বারী মানে ঐদিনের টাকার মালিকানার হিস্যা।
অনুমতি নিয়ে রেকর্ড করি। তিনি জানান, ৩০০ টি পরিবার দরগার মাজারের টাকা পয়সার ভাগ বাটোয়ারা পেয়ে থাকেন৷ কোন বিভক্তি বা ঝগড়াঝাটি নেই। আর দরগার মুল মাতোয়াল্লী সরকেওম জঙ্গী। তিনিই মুল মতওয়াল্লী।। সামুন মাহমুদ মতোয়াল্লী হবার কথা না৷ উনি কেরানী। সবাই মতোয়াল্লী বলে চালাচ্ছেন। সামুন মাহমুদ একটু ম্যানেজ করতে পারেন বলে তাকে সামনে উপস্থাপন করা হয়৷
(উনারা) শামুন মাহমুদ ও জিন্নুন মৌলভীবাজারের বাসিন্দা।
গত ২ দিন বহু জনের সাথে কথা হয়েছে৷
লোকমান কোরেশী ( ৮৫) জানান, উনার থাকাকালীন সময়ে দৈনিক ৫০ হাজার থেকে এক বা দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ হত৷ উনি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ১৮/২০ বছর ৷ এখন প্রতিদিন ৩/৪ লাখ টাকা সংগ্রহ হয়, শুক্রবার বা বিশেষ দিনে ৫/৭ লাখ টাকা উঠে ।
কাহিনী অনেক লম্বা, দুটো পরিবারের নিকট দরগার মাজার নিয়ন্ত্রিত। । সরকেওম ও মুফতি পরিবার।। কোরেশী জানান ১৯৮১ সালে ১৯৭ টি সদস্য পরিবার থাকলেও এখন এটা ৩০০ এর বেশী পরিবারের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে।।। মুফতি পরিবার ৩ দিন বাট পান এবং ৪ দিন সরকেওম গোষ্টি বাট পান৷ বাট মানে সেই দিনের সব দানের টাকা৷
নানা জেলার মানুষ যা টাকা পয়সা, মুরগ, ছাগল,গরু, সোনা দানা যাই দান করেন, তা ৩০০ পরিবারে চলে যািয়।। মসজিদের দান বাস্কের টাকা শুধু মসজিদে যায়।
৪০/ ৫০ জন কর্মচারী কাজ করেন।
লোকমান কোরেশী জানান, এই পারিবারিক ভাগ বাটোয়ারা চলে আসছে একটি সিষ্টেমেটিক ওয়েতে। সরকেওম গোষ্ঠী বর্ধিত হচ্ছে না , মুফতি গোষ্ঠী বাড়তেই আছে।।
দরগা মাজারে সারা দেশের মানুষ মানতের টাকা দান করলে, সেই টাকা চলে যায় সেই ৩০০ পরিবারে ভরন পোষনে। । এই দরগার মাজারের মুফতি ও সরকেওম গোষ্টির লোকজন কোন কাজ বা ব্যবসা না করে যুগ যুগ থেকে চলে ( দিন যাপন) দানের টাকায়। বিলাসী জীবন, দামী গাড়ী চালায়৷
একবার ১৯৯১-৯৬ সালে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ তার ৫ বছরের এম পি এর সব বেতন দরগায় দান করেন, সেই টাকাও নয় ছয় হয়।
একজন জানালেন, কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমদে তিন মেয়ের পর এক ছেলে পাওয়ার জন্য সিলেটে এসে দরগায় গরু দান করেন৷ এই সব গরু ৩০০ পরিবারে ভাগ বাটোয়ারা হয়।।
কেন এই বিস্ফোরন?
এই হিসাব নিকাশ টা আজ নতুন নয়। এম সাইফুর রহমান একবার চেষ্টা করে তিনি থেমে যান। মৌলভীবাজার এর রাজনীতি থেকে সিলেট শহরে রাজনীতির লোভে তিনি হিসাব নিয়ে বিতর্কে যান নাই। চুপ হয়ে যান।। কোরেশী জানান, সাইফুর রহমানকে হিসাব দেয়া হয়েছিল৷
বিএনপি সরকারে আসলে দরগা মাজারের টাকার হিসাব চায়? তাহলে কি ফ্যামিলী কার্ড বা সিলেট উন্নয়ন কতৃপক্ষ হলে টাকা লাগবে? তাই এই উত্তেজনা।
এখন কেন এই বিতর্ক –
দরগার আশে পাশে এই মুফতি সরকেওম গোষ্টি ওয়াকফ জায়গায় বৃহদ বৃহদ আবাসিক হোটেল বানিয়ে মিলিওনিয়ার। এই বিষয়টা অনেকের নজরে এসে গেছে৷ বিনা পয়সায় পরিবারর চলে, পাশাপাশি ফোর ষ্টার হোটেল৷। এই দুই গোষ্ঠী র লোকজনের পড়াশুনা কম । হাতে গোনা কয়েকজন উচ্চ শিক্ষিত৷ এই দুই গোষ্ঠী র মধ্যে নীরব প্রতিযোগীতা চলে কমিশনার নির্বাচন নিয়ে৷
দরগা মাজারের এই সাম্প্রতিক বিতর্ক
নিয়ে জামায়াতের একটি নিরবতার কৌশল রয়েছে এবং বিএনপির বৃহদ অংশের ডিসিকে সাপোর্ট।
ডিসি সারোয়ারের জামায়াত কানেকশন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারন,দরগার চরম বিরোধী সিলেট জামায়াত।।
এই দরগার মাজার এর ওয়ার্ডটা জামায়াতের। ডিসি একটু তাড়াহুড়ো করছেন কারও ইন্দনে, মনে হতে পারে।
তবে টুরিস্ট পুলিশ এবং পুলিশের একটা ক্যাম্প জরুরী ঐ জায়গায়৷
সিলেট বিএনপির দুই ধারা, দু দিকে। সিলেটের ২ জন মন্ত্রী কোন দিকে আছেন বোঝা যাচ্ছে না৷। তবে একজন বিএনপি নেতা বেশী সিরিয়াস।।
আমার ধারনা, এটার প্রভাব টুরিজমে প্রভাব ফেলবে।। সারা দেশের মানুষ সিলেট আসছেন শাহজালাল মাজারে। কয়েক হাজার কোটি টাকার টুরিজম বিজনেসটা সিলেটে।। তবে এক শ্রেনী বলছেন,ভক্তরা আর আবেগে টাকা দিবেন না৷ মসজিদ ও মাদ্রাসায় দিবেন।
এই টাকাটা কি হালাল :
অবশ্যই এটা হারাম এর পর্যায়ে।। যে পরিবারের লোকজন অন্যের দানের / মানতের টাকায় চলেন, এটা হালাল হবার সুযোগ নাই। এই ৩০০ পরিবার সারা জীবন যা খেয়েছেন, সবই হারাম। বাচ্চাদের পড়াশোনা করিয়েছেন, ব্যায়বহুল বিয়ে দিয়েছেন, অট্টালিকা বানিয়েছেন, সবই দরগার মাজারের টাকায়।
দরগার আগের ইমাম যিনি ছিলেন, মরহুম জনাব আকবর আলীর কাছে গেলে, তিনি সব সময় দরগার মাদ্রাসায় দান করতে বলতেন এবং রিসিট দিতে বলতেন।
আমরাও মনে করি, এই যুগে একটি মাজারে কেন টাকা দান করবেন? যেটার টাকা এক শ্রেনী ভোগ করে৷ একটা দানের গরু তিন বার বিক্রি হয়।
দানের মোমবাতি দোকানে ফিরে আসে।। সবই জালিয়াতি।।
” বাট ” বা বারী – নামের চরম বিতর্কিত টাকা৷
সামুন মাহমুদ নিজেই বলেছেন, তার এবং মুফতি //সরকেওম গোষ্ঠীর সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত, তাহলে কেন, এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন। এটা তো লজ্জার।।
হযরত শাহজালাল কি বিবাহিত ছিলেন?
আমরা জানতাম তিনি অবিবাহিত। গতকাল ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের সভাপতি দত্ত চৌধুরী জানালেন, শাহজালাল ( র:) , বিবাহিত ছিলেন এবং উনার ২ টা মেয়ে ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *