চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে শক্তিশালী বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা সুপার টাইফুন ‘বাভি’-কে ঘিরেও সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী হুবেই প্রদেশের হুয়াংশি, হুয়াংগ্যাং, ইঝৌ ও শিয়াননিং শহরে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৯ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। এতে বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত আটজনের প্রাণহানি ঘটে। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুয়াংশি এবং পূর্বাঞ্চলের জিয়াংসু ও শানদং প্রদেশে সর্বোচ্চ ২৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

হুবেই ও শানদং চীনের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চল। এ সময়ের ভারী বৃষ্টিতে মৌসুমের শেষ দিকে সংগ্রহ করা ভুট্টা, চিনাবাদাম ও বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চীনে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে। বন্যা, ঝড় ও অতিবৃষ্টিতে প্রতিবছর দেশটির অর্থনীতিতে কয়েক দশমিক বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় বিভিন্ন শহর প্লাবিত হয়েছে, শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন বৈরী আবহাওয়া ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

এদিকে সুপার টাইফুন বাভি বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগর অতিক্রম করে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবার গুয়াম, টিনিয়ান, সাইপান ও রোটা দ্বীপের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় টাইফুনটির বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ মাইল।

সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক/হা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *