প্রায় ১৪ বছর ধরে পরিচয় গোপন করে আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এক হত্যা মামলার আসামিকে রুদ্ধশ্বাস অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোয়াইনঘাট থানার হরুখেল এলাকার খাটারীগাংয়ে পাথর শ্রমিক আব্দুল জলিলকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় হত্যা মামলা (মামলা নং-১৭, জিআর-৪১, তারিখ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১২, ধারা: ৩০২ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালত এজাহারভুক্ত আসামি জীবন বক্তার (পিতা- অনীল বক্তার), গ্রাম- বাঘছড়া চা বাগান, থানা- জৈন্তাপুর, জেলা- সিলেটকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

 

রায় ঘোষণার পর থেকেই জীবন বক্তার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে ‘মো. আল-আমিন’ নামে নতুন পরিচয় গ্রহণ করে। এমনকি ভোটার তালিকায়ও নাম পরিবর্তন করে বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বসবাস শুরু করে। ভুয়া পরিচয় ব্যবহারের কারণে দীর্ঘদিন তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

 

অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সার্বিক দিকনির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ২টা ৪০ মিনিটে এসআই (নিরস্ত্র) সজল দাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ বাঘছড়া চা বাগান এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।

 

অভিযানে ছদ্মবেশে আত্মগোপনে থাকা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি জীবন বক্তার ওরফে আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

 

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, “আইনের হাত থেকে কেউ চিরদিন পালিয়ে থাকতে পারে না। পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘ ১৪ বছর আত্মগোপনে থাকলেও পুলিশের ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাজাপ্রাপ্ত এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জৈন্তাপুর মডেল থানা অপরাধ দমনে এবং আদালতের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *