সিলেটের টুকের বাজার এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে অপহরণের হাত থেকে উদ্ধার করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) ছাত্রদলের এক নেতা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দুইজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

 

গত শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে টুকের বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের জালালাবাদ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

উদ্ধারকারী শাবিপ্রবি ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে এক যুবকের চিৎকার শুনতে পান। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও পরে ওই যুবককে অটোরিকশার বাইরে শরীরের অর্ধেক বের করে ‘ভাই, আমাকে বাঁচান’ বলে চিৎকার করতে দেখেন। এতে তাঁর সন্দেহ হয়।

 

পরে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড হয়ে তেমুখী এলাকায় গিয়ে অটোরিকশাটিকে দেখতে না পেয়ে তিনি ফিরে আসার কথা ভাবছিলেন। এ সময় পেছন থেকে এক মোটরসাইকেল আরোহী তাকে অটোরিকশাটি ধরতে দ্রুত এগিয়ে যেতে বলেন। পরে তেমুখীর ঢালু পার হয়ে টুকের বাজারের দিকে যাওয়ার সময় তিনি অটোরিকশাটিকে দেখতে পান।

 

আশিক জানান, অটোরিকশাটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলেও চালক সেটি না থামিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। পরে তিনি মোটরসাইকেলটি দ্রুত চালিয়ে অটোরিকশাটির সামনে গিয়ে রাস্তা আটকে দেন। এ সময় আরও কয়েকটি মোটরসাইকেল সেখানে এসে থামে।

 

অটোরিকশা থামার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে থাকা দুই ব্যক্তি নেমে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদের একজনকে আটক করা হয়। পরে অটোরিকশার চালকসহ অপর ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।

 

ঘটনাস্থলে শাবিপ্রবির সহকারী প্রক্টর ও বাংলা বিভাগের শিক্ষক শামসুদ্দিনও উপস্থিত হন। আশিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনিও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে ওই যুবকের চিৎকার শুনে মোটরসাইকেল নিয়ে অটোরিকশাটির পিছু নিয়েছিলেন।

 

আশিক বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি আটক ব্যক্তিদের নিজেদের জিম্মায় নিয়ে এলাকায় বিচার করার কথা বলছিলেন। তারা দাবি করেন, আটক ব্যক্তিরা এলাকার হলে তাদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হবে। তবে তিনি তাদের পরিচয় ও দায়িত্ব নেওয়ার কারণ জানতে চান। পরে স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

 

এ সময় উদ্ধার হওয়া যুবকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন আশিক। ওই যুবক জানান, তিনি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করেন। সেখানে কয়েকজন গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার কথা বলে তাকে বাইরে ডেকে নেন। পরে চায়ের দোকানে যাওয়ার কথা বলে তাকে সিএনজিতে উঠতে বলা হয়। তিনি আপত্তি জানালে তাকে জোর করে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে সুযোগ পেয়ে অটোরিকশা থেকে শরীরের কিছু অংশ বের করে চিৎকার শুরু করেন।

 

আশিক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, বাসস্ট্যান্ড ও মদিনা মার্কেটের মতো জনবহুল এলাকা পার হয়ে অটোরিকশাটি টুকের বাজারের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে কেউ বিষয়টি বুঝতে না পারলে আরও দূরে চলে যাওয়ার পর যুবককে উদ্ধার করা কঠিন হয়ে যেতে পারত।

 

পরে জালালাবাদ থানায় যোগাযোগ করেন আশিক। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়। উদ্ধার হওয়া যুবক ও অটোরিকশার চালককেও থানায় নেওয়া হয়।

 

জালালাবাদ থানার ওসি শামসুল হাবিব বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা দুইজনকে আটক করে অপহরণ মামলা দিয়েছি। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।’

 

এবিষয়ে ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আশিক বলেন, ‘আমি তখন শুধু চিন্তা করেছি, ছেলেটা আমাদের কোনো ভাই-বোন বা পরিচিত কেউ হতে পারত। অপরিচিত মানুষ বিপদে পড়লেও আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। আমি যদি তখন অটোরিকশাটির পিছু না নিতাম, তাহলে ছেলেটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো কি না জানি না।’

 

তিনি রাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচলের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে নির্জন এলাকায় এবং রাতে যাতায়াতের সময় চালক ও আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *