দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে কাল বুধবার থেকে সিলেটের সব চা বাগানে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত চা শ্রমিক নেতারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরের মালনীছড়া চা বাগান এলাকায় মশাল মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গেজেট-২০২৩’ বাতিল, দ্রুত বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বাচাশ্রই) নির্বাচন আয়োজন এবং চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা।

প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মালনীছড়া চা বাগান থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। পরে রেস্ট ক্যাম্প বাজার ও লাক্কাতুরা এলাকা ঘুরে মিছিলটি আবার রেস্ট ক্যাম্প বাজারে এসে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ।

চা শ্রমিক ঐক্য কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অজিত রায় বাড়াইকের সভাপতিত্বে সমাবেশটি পরিচালনা করেন চা বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সংগঠক অধীর বাউরী। এতে বচন কালোয়ার, চম্পক বাউরী, রবি মাল ও বাবলু সবরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে অজিত রায় বাড়াইক বলেন, বর্তমানে একজন চা শ্রমিক দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরি পান। এই অর্থে একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্যচাহিদা পূরণ করাই কঠিন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ১০ ঘণ্টা শ্রম দিলে একজন পুরুষ শ্রমিকের প্রায় ৩ হাজার ৪৬৪ কিলোক্যালরি এবং একজন নারী শ্রমিকের প্রায় ২ হাজার ৪০৬ কিলোক্যালরি শক্তি ব্যয় হয়। পাঁচ সদস্যের একটি চা শ্রমিক পরিবারের শুধু খাবারের প্রয়োজন মেটাতেই প্রতিদিন আনুমানিক ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরকার। এর সঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, পোশাক ও বাসস্থানের মতো অন্যান্য প্রয়োজন তো রয়েছেই।

অজিত রায় বাড়াইক বলেন, ৫০০ টাকা মজুরির দাবি কোনো বিলাসী দাবি নয়। শ্রমিকদের ন্যূনতম জীবনধারণ ও পরদিন আবার কাজে যাওয়ার সামর্থ্য নিশ্চিত করতেই এ দাবি জানানো হচ্ছে।

চা শ্রমিক ঐক্যের উপদেষ্টা সঞ্জয় দাস বলেন, ২০২৩ সালের গেজেটে চা শ্রমিকদের মূল মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে মজুরি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, এর পাশাপাশি বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও কমেছে।

তিনি আরও বলেন, সংশোধিত শ্রম আইনের ১৩৯(৬) ধারা অনুযায়ী গত ১০ আগস্ট নতুন করে মজুরি নির্ধারণের কথা থাকলেও ‘গেজেট-২০২৩’ এখনো বাতিল করা হয়নি।

সঞ্জয় দাস দ্রুত শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, গেজেট বাতিল, বাচাশ্রই নির্বাচন এবং ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চার দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বুধবার থেকে সিলেটের প্রতিটি চা বাগানে প্রতিদিন দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হবে। দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, রাজপথে অবস্থান ও অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

 

আমারসিলেট/হা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *