শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এক নারী শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বাসচালকের রূঢ় আচরণ এবং অভিযোগটি মীমাংসার জন্য পরিবহন দপ্তরের কয়েকজনের চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ করেছেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ওই শিক্ষার্থী এসব অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী জানান, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে টিলাগড়ের বাসে মদিনা মার্কেট নামার সময় তিনি চালককে বাস থামাতে বলেন। এ সময় চালক তাকে ‘আপনারা এসব বাসে কেন উঠবেন’সহ বিভিন্ন কথা বলে রূঢ় আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জানালে তাকে পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবহন প্রশাসক ফোনে তার সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষার্থীর দাবি, ওই সময়ও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। তবে পরিবহন প্রশাসক বলেন, তিনি অভিযোগটি দায়িত্বের জায়গা থেকে দেখার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

অভিযোগকারী আরও বলেন, পরবর্তীতে পরিবহন দপ্তরের কয়েকজন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। এমনকি চালকের চাকরি রক্ষা করার বিষয়েও তাকে বলা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে তার ভাষ্য, ‘আমি কারও চাকরি খাওয়ার জন্য অভিযোগ করিনি। আমার মূল বিষয় আমার নিরাপত্তা।’

রোববার দুপুরে পরিবহন প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে ঘটনাটি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও প্রশাসকের কক্ষ না চেনায় পরিচিত এক শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান। এ সময় পরিবহন প্রশাসক ওই শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে ‘তুমি কে? তুমি কেন এখানে এসেছ? তুমি কি লিডার?’ বলে প্রশ্ন করেন এবং পরে তাকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ঘটনাটির ব্যাখ্যায় পরিবহন প্রশাসক অধ্যাপক ড. খালিদুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থীর সমস্যা নিয়ে তার বক্তব্য শুনতে চাচ্ছি। সে কী অভিযোগ করেছে, সেটা তার কাছ থেকেই শুনতে হবে। এ নিয়ে আমি তাকে ধমক দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরপর মেয়েটিকে দেখতে পাই। সে ওই ছেলেটির হাত ধরে কথা বলছিল। তখন আমি বলি, তাহলে আর কথা বলার দরকার নেই, তোমরা যাও। শিক্ষক হিসেবে আমার বক্তব্য হলো, একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ বা অনুযোগ থাকলে সেটি তার কাছ থেকেই শুনে অফিসিয়ালভাবে বিষয়টি দেখা হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখানে দায়িত্বে এসেছি শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য। এ বিষয়ে আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছে। অভিযোগটি আমরা পেয়েছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *