সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের কোনাচর মোল্লাবাড়ির পরিবার ও কোনাচর জামে মসজিদের মোতাওয়ালীø আখতার হোসেন কাওছারকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য কামরান আহমদ। একই সঙ্গে ১২২/২০২৬ নম্বর বিচারাধীন মামলাকে কেন্দ্র করে বিবাদীপক্ষের বক্তব্য এবং মোল্লাবাড়ির বংশপরিচয় ও মসজিদের মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব নিয়ে করা বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে কোনাচর মোল্লাবাড়ির পরিবারের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কামরান আহমদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর বিবাদীপক্ষ আদালতের নিষেধাজ্ঞার নোটিশ গ্রহণের পর ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজ শেষে কোনাচর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মামলার বাদী ও বর্তমান মোতাওয়াল্লি আখতার হোসেন কাওছার এবং তাঁর পরিবার সম্পর্কে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। কামরান আহমদের দাবি, এসব বক্তব্যের কিছু অংশ অসত্য ও আক্রমণাত্মক এবং এতে কাওছারের ব্যক্তিগত জীবন, শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন, যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়েও মন্তব্য করা হয়েছে।
ওই বক্তব্যের সঙ্গে রোম্মান আহমদ, জিয়াউল ইসলাম জিতু মিয়া, শাহাব উদ্দীন, আরিফ আহমদ মজনু, হেলাল আহমদ, জুবায়ের আহমদ আনা, শাহিন আহমদ ও মেরাজুল ইসলাম শাবুলের নাম উল্লেখ করেন কামরান আহমদ।
তিনি দাবি করেন, কোনাচর মোল্লাবাড়ি তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের পরিচয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাঁদের সংরক্ষিত পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী বংশধারায় রহিম আশিক মোল্লা ইয়েমেনি, মাং বাবর, মাং জাফর, মাং রউফ, মাং মারুফ, হাজী আরিজ আলী ও মাং মাজুমসহ পূর্বপুরুষদের নাম রয়েছে।
‘
খানে বাড়ি তালুক’ প্রসঙ্গে কামরান আহমদ বলেন, তাঁদের পারিবারিক রেকর্ড অনুযায়ী এটি রহিম আশিক মোল্লা ইয়েমেনির তালুকের ঐতিহাসিক নাম এবং এর তালুক নম্বর ৬৪০১/১২০।
মসজিদের বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কোনাচর জামে মসজিদ, সংশ্লিষ্ট গোরস্থান ও অন্যান্য জমি ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের আওতায় নিবন্ধিত হয়। এর ইসি নম্বর ১৮১৭২ বলে উল্লেখ করা হয়। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আবদুর রশীদ সোহাগ মিয়া এবং ২০০৬ সাল থেকে আখতার হোসেন কাওছার মোতাওয়াল্লি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০০৬ সালে মসজিদ পুনর্র্নিমাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে ২০০৮ সালে তৎকালীন চেয়ারম্যান মিসবাহুল কাদির ফাহিম ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা দিলাওয়ার হোসেন খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কামরান আহমদ বলেন, ২০২৩ সাল থেকে বিরোধ পুনরায় দেখা দেয়। মসজিদের হিসাব-নিকাশ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত হিসাব দেওয়া হলেও এরপর নিয়মিত হিসাব দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বিচারাধীন মামলা চলাকালে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন এবং যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে আখতার হোসেন কাওছার ও কোনাচর মোল্লাবাড়ির বংশপরিচয় নিয়ে করা বক্তব্যের পক্ষে দলিল-প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানান কামরান আহমদ।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে নিডিকেয়ার চ্যারিটি ইউকে লিমিটেড নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর কোনাচর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দেওয়া বক্তব্যে নিডিকেয়ার চ্যারিটি ইউকে লিমিটেডের নাম উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে কিছু বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্যের কয়েকটি অংশ ‘অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর’। তিনি চ্যারিটি সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হক, ফয়েজ উদ্দিন, ছাদিকুর রহমান, এমরান আহমদ, লায়েছ আহমদ, মিনহাজ আহমদ, তামিম আহমদ প্রমুখ।



