তিন কিশোর

সিলেটের কথাসাহিত্যিক লেখক সাংবাদিক সেলিম আউয়াল কিশোর বয়সের বন্ধুদের নিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে নিজের ফেসবুকে পেইজে জীবনের ফেলা আসা বন্ধুদের নিয়ে মধুর স্মৃতিকথা লিখেছেন। আমার সিলেট পাঠকের জন্য সাহিত্যপাতা প্রকাশ করা হলো–

তিন কিশোরের সাদা-কালো এই ছবির মধ্যিখানে আমি দাঁড়িয়ে। আমার বামে শাহিন আর ডানে মাসুদ। জিন্দাবাজারের আলোছায়া ফটো স্টুডিওতে তোলা। আমাদের তিনজনের পরনে ছিলো হাতির পায়ের মতো পা-ওলা বেলবটমের পেন্ট। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর ছবির তিনজন আজ (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) একসাথে মিলেছিলাম। ছবিটি নিয়ে কথা তুলে মাসুদ, যার পুরো নাম কাজী মাসুদ, সে বলে আমি নাকি ওদের চেয়ে খাটো ছিলাম ছবি তোলার সময় হাই হিল পরেছিলাম। ওর আরেকটি দাবি, ও নাকি আমার চেয়ে বছর দুয়েক বড়ো। ওকে আমি ‘তুই’ বলতাম, আমাকেও ‘তুই’ বলে ও। সেই শৈশব থেকে এখনো। কাজেই ওর দাবিসব বিশ্বাস না করাই ভালো। আর আমার ডানে যে শাহিন, ওর নাম আবুল কালাম আজাদ শাহিন। ও আমাদের চেয়ে বয়সে বেশ ছোটো, ওর বড়ো ভাই বাচ্চু ছিলো আমাদের বন্ধু। সেই বন্ধু ক্ষয়ে ক্ষয়ে একদিন শাহিন হয়ে যায় ‘বন্ধু’, কিন্তু ও আগে ডাকতো ‘সেলিম ভাই’, এখনো সেইভাবে ডাকে।

আমাদের তখন নিবাস আম্বরখানা সরকারি কলোনিতে। ওসমানী বিমান বন্দর সড়কের পাশে ছোট ছোট টিলার উপর হলুদ রঙের ছ’টি বিল্ডিং সরকারি স্টাফ কোয়াটার। একই বিল্ডিংয়ে অনেকগুলো পরিবারের বাস। আমাদের বাসা পাশাপাশি, মানে নেক্সট ডোর অথবা একই বাসায় আমরা থাকি বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। আমাদের এই উলটা-পালটা বয়েস হবার পরও আমরা এই তিনজন বন্ধু হবার কারণ ছিলো ‘বইপড়া’। আমাদের তিনজনের একটি জায়গায় মিল ছিলো আমরা বই পড়তাম। আমরা নানাভাবে বই সংগ্রহ করতাম। আমাদের তিনজনের বই সংগ্রহের ধরন ছিলো আলাদা।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৮
  • ১১:৪৮
  • ৪:০৬
  • ৫:৫১
  • ৭:০৪
  • ৫:৪১