যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ফেডারেল ডেটাবেস ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

শুক্রবার এক আদেশে স্টেইট কর্তৃপক্ষকে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ ফেডারেল তথ্য ব্যবহার করে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই রায়ের মধ্য দিয়ে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোটদানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রাসী প্রচেষ্টায় সাময়িক বিজয় এনে দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই ব্যবস্থা নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকাতে সহায়তা করবে। তবে অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ডেটাবেসে ভুল তথ্য থাকলে বৈধ ভোটারদেরও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মামলাটির কেন্দ্রে রয়েছে সেভ নামের ফেডারেল ব্যবস্থা, যা আগে নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে ব্যবহৃত হতো। গত বছর ব্যবস্থাটি সম্প্রসারণ করে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক রেকর্ড এবং ব্যক্তির সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর দিয়ে তথ্য খোঁজার সুযোগ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা বলেছেন, ফেডারেল আইন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টকে অন্যান্য সরকারি সংস্থা, এমনকি সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন থেকেও নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার অনুমতি দেয়। তবে তিন উদারপন্থী বিচারপতি এই আদেশের বিরোধিতা করেছেন।

অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ব্যবস্থাটি ইতোমধ্যে কিছু বৈধ নাগরিককে ভুলভাবে নাগরিক নয় বলে শনাক্ত করেছে। টেক্সাসের ট্রাভিস কাউন্টির এক নির্বাচনী কর্মকর্তা আদালতে জানান, সেভ ব্যবস্থায় শনাক্ত হওয়া নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের প্রায় ২৫ শতাংশই পরে তাদের অ্যামেরিকান নাগরিকত্ব প্রমাণ করেছেন।

তবে ডেটাবেসটির সামগ্রিক ভুলের হার প্রকাশ করা হয়নি।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই আদেশের তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত থাকতে পারে। কারণ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার ৯০ দিনের মধ্যে অধিকাংশ স্টেইটে ভোটার তালিকা থেকে ব্যাপকভাবে নাম বাদ দেওয়ার ওপর বিদ্যমান আইনি বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি সেভ ব্যবস্থার ব্যবহার স্টেইটগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়।

ফলে সুপ্রিম কোর্টের আদেশে আপাতত ট্রাম্প প্রশাসনের নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রমের আইনি বাধা কমলেও, বৈধ ভোটারদের বাদ পড়ার ঝুঁকি এবং ডেটাবেসের নির্ভুলতা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *