পাকিস্তান কেন ইউরেনিয়াম বহনকারী রাশিয়ার বিমানকে বাংলাদেশে আসতে বাধা দিলো এ নিয়ে নানান মুখরোচক আলোচনা, সমালোচনা এবং প্রশ্নের জেরা চলছে। হঠাৎ করে এই বৈরী আচরণ কেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মনে। বিষয়টি নিয়ে জল গড়াগড়ির মধ্যে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি বিমান চলাচলের কারিগরি এবং ক্লিয়ারেন্স ইস্যু এবং এতে কোনো নাক গলানে হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটি।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, পারমাণবিক পদার্থ বহনকারী ফ্লাইটের জন্য প্রতিটি দেশের কাছ থেকে আলাদা করে ডিপ্লোম্যাটিক ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়।
রোসাটম সূত্রে জানা গেছে, আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সময়মতো না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের জন্য ইউরেনিয়াম সরবরাহের ফ্লাইটসূচি বাতিল করতে হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার বিষয়টি নিয়ে বিবিসি উর্দুকে বলেছেন, ‘পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়মের প্রতি প্রতিশ্রুতি বজায় রাখে এবং আমাদের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা ও বেসামরিক বিমান চলাচল প্রটোকলের সাথে সম্পূর্ণ সংগতি রেখে, একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং ওভারফ্লাইট ক্লিয়ারেন্সের সমস্ত আবেদন প্রক্রিয়া করে থাকে।’
বিমান চলাচলের অনুমতি দেয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং কারিগরি কারণে ফ্লাইটসূচি পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।
‘বিষয়টি ফ্লাইট রুট এবং আকাশসীমা অনুমোদনের সাথে সম্পর্কিত কারিগরি ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থার সাথে জড়িত। যার জন্য মাঝেমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং এর ফলে ফ্লাইটসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে’-যোগ করেন হায়দার।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টিকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে বরং কারিগরি ও পদ্ধতিগত জটিলতা হিসেবেই উল্লেখ করেছেন তিনি। বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে। তাই এই বিষয়টিকে এর সঠিক কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা সঠিক হবে এবং কোনো প্রতিবেদন বা বর্ণনার প্রতি অপ্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেয়াই সমীচীন হবে না যা কিনা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে খাটো করে দেখতে পারে।’



