বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন: আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নাকচ, নথিপত্র যাচাইয়ের আহবান

বাংলাদেশ সোসাইটির সংবাদ সম্মেলন: আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নাকচ, নথিপত্র যাচাইয়ের আহবান

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী পরিষদকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে ওঠা আর্থিক অনিয়ম ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের অভিযোগের জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি। ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব হিসাব ও নথিপত্রের মিল নেই। সংগঠনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সদস্য ও কমিউনিটির সামনে তুলে ধরার কথা জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেলিম আলীর নেতৃত্বাধীন প্যানেল সদস্যদের বিপুল ভোটে জয়ী হয়। একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর নতুন কার্যকরী পরিষদ শপথ নেয় এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ সোসাইটির হিসাবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭৩ ডলার ছিল। আগের কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে বিদায়ী অনুষ্ঠানে প্রায় ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার থাকার কথা বলা হলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় ওই পরিমাণ পাওয়া যায়নি বলে বর্তমান পরিষদ দাবি করেছে। পূর্ববর্তী সময়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সেবার খাতে প্রায় ২০ হাজার ডলারের বকেয়া দায়ও পরিশোধ করতে হয়েছে বলে জানানো হয়।

বর্তমান পরিষদের দাবি, সীমিত অর্থ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরও সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। গত ২০ মাসে বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বড় আয়োজন, নিউইয়র্কের চারটি বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় আটটি ইফতার মাহফিল, অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সেমিনারসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। সদস্যদের দুর্দিনে সহায়তা, জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতাও দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলার ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। বর্তমান কার্যকরী পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংগঠনের নিয়মিত পরিচালন ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৭ ডলার এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৮১৮ ডলার। সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়ায় ৫ লাখ ২১ হাজার ৮৬৫ ডলার, যা ৭ লাখ ২৫ হাজার ডলারের অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করা হয়। এসব ব্যয়ের পরও ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগঠনের বিভিন্ন হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার ডলার জমা রয়েছে বলে জানানো হয়।

বাংলাদেশ সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নিউইয়র্কের জ্যামাইকা এলাকায় একটি ভবন কেনার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর শর্তসাপেক্ষে চুক্তি করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ সোসাইটির পক্ষ থেকে ২ লাখ ডলার জামানত দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ব্যক্তিগতভাবে অনুদান হিসেবে দেন বলে দাবি করা হয়। তবে ভবনটিতে কিছু ত্রুটি ও চুক্তির শর্ত পূরণে বিক্রেতা পক্ষের ব্যর্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে চুক্তি বাতিল করা হয় এবং পুরো ২ লাখ ডলার জামানত ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

ভবনের বিভিন্ন ভায়োলেশন ও জরিমানা নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হয়। বর্তমান পরিষদ দাবি করেছে, এসব ভায়োলেশন তাদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় সৃষ্টি হয়নি; বরং আগের সময় থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রায় ৮২ হাজার ডলারের জরিমানা ছিল বলে জানানো হয়। পরে একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়ে আইনগতভাবে জরিমানা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং এরই মধ্যে তা প্রায় ৩১ হাজার ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বার্ষিক ইফতার মাহফিলের ব্যয় নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সোসাইটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, গত দুই বছরে চারটি এলাকায় মোট আটটি ইফতার মাহফিলের ব্যয় ছিল প্রায় ৮৯ হাজার ডলার। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৫৭০ ডলারের বেশি এসেছে স্পন্সর ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা থেকে। ফলে সংগঠনের নিজস্ব তহবিল থেকে আটটি আয়োজনের জন্য ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৪৬ হাজার ৪৩০ ডলার। সংগঠনের দাবি, এই আটটি আয়োজনের সম্মিলিত ব্যয়কে একটি ইফতার মাহফিলের ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তাদের নামে ইস্যু করা চেক নিয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তারা নিজেদের পকেট থেকে বাংলাদেশ সোসাইটির অনুমোদিত ব্যয় পরিশোধ করেন। পরে রসিদ, ভাউচার ও ব্যয়ের প্রমাণ যাচাই করে ওই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফেরত দেওয়া হয়। তাই কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নামে চেক ইস্যু হওয়া মানেই সংগঠনের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া নয় বলে দাবি করা হয়।

বার্ষিক সাধারণ সভা, হিসাব ও অডিট প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে সাধারণ সভায় হিসাব উপস্থাপন করা হয়। আগের সভায় সিপিএ প্রতিবেদনসহ আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং বড় পর্দায় আর্থিক তথ্য দেখানো হয়েছে বলে জানানো হয়। সদস্যদের প্রশ্ন ও আলোচনার পর ওই হিসাব অনুমোদিত হয়েছে বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। আগামী ডিসেম্বরেও বার্ষিক সাধারণ সভায় পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

ফিউনারেল সার্ভিস ও কবরের অর্থ নিয়েও অভিযোগের জবাব দিয়েছে বর্তমান পরিষদ। তাদের দাবি, এ খাতে সংগঠনের কোনো অর্থ অপচয় বা হারিয়ে যায়নি। বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফিউনারেল ও কবরসংক্রান্ত অর্থের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কার্যকরী পরিষদে এ বিষয়ে প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সদস্যদের প্রয়োজন মেটানোর মতো পর্যাপ্ত কবরের ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় আরও কবরের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়াও চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান কার্যকরী পরিষদ জানিয়েছে, তাদের মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ওই সময় পর্যন্ত গঠনতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রেখে বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে সংগঠনের আর্থিক হিসাব বা কার্যক্রম নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে তথ্য ও নথি যাচাই করে প্রশ্ন তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লায়ন শাহ নেওয়াজ, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী উপস্থিত ছিলেন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩০
  • ১১:৪৬
  • ৪:০১
  • ৫:৪৪
  • ৬:৫৭
  • ৫:৪৩