সিলেটের ইউনিভার্সাল আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

সিলেটের ইউনিভার্সাল আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

সিলেটের ইউনিভার্সাল আইডিয়াল কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির নবাগত শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিগত বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর,২০২৬ বেলা ১১টায় কলেজের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক অধ্যক্ষ, মদন মোহন কলেজ ও রোটারি ব্যক্তিত্ব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আতাউর রহমান পীর। প্রধান আলোচক ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. জিয়াউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রশিদ মাসরুর ও ট্রাস্টি মেম্বার সাইফুর রহমান।

কলেজের প্রভাষক দুলাল আহমেদ ও শিক্ষক করিমুল ইহসান যৌথভাবে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুরুতে শিক্ষকরা অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। পরে নবাগত শিক্ষার্থীদের হাতে রজনীগন্ধা ফুল তুলে দিয়ে তাদের স্বাগত জানানো হয়। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা বেগমের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদের গজল পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

নবাগত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সানিয়া হোসেন। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক হা. মাও. আব্দুল মুহিত, বদরুল ইসলাম, মিনহাজুল ইসলাম ও এনাম উদ্দিন রাহাত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আতাউর রহমান পীর শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফলের পেছনে না ছুটে বিবেকবান, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নৈতিকতাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন নয়; বরং জ্ঞান, সততা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে একজন আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠা। তিনি আরও বলেন, কলেজজীবন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা, ভালো বই পড়া, শিক্ষকদের পরামর্শ গ্রহণ এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার চর্চা করতে হবে। পাশাপাশি মাদক, অসৎ সঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার জন্যও তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন।

প্রধান আলোচক ড. জিয়াউর রহমান শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তী ও পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জীবনে সময়ের মূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করে নিয়মিত পড়াশোনা এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়ার জন্য তিনি নবাগতদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না; নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মূল্যবোধও অর্জন করতে হবে। সময়ের অপচয় না করে নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

শিক্ষকরা নবাগত শিক্ষার্থীদের কলেজের নিয়ম-কানুন মেনে চলা, শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সহপাঠীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিজেদের যোগ্য ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩০
  • ১১:৪৬
  • ৪:০১
  • ৫:৪৪
  • ৬:৫৭
  • ৫:৪৩