বাংলার প্রকৃতি শুধু আমাদের চোখকে মুগ্ধ করে না, আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও সাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করে। নদী, নৌকা, মাঠ-ঘাট, ঋতুবৈচিত্র্য, গ্রামীণ জনপদ, মানুষের হাসি-কান্না—সবকিছু মিলেই আমাদের আবহমান বাংলার স্বতন্ত্র পরিচয়। এই প্রকৃতি ও জনজীবনের সঙ্গে আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। একজন সাহিত্যিকের দায়িত্ব শুধু কল্পনার জগৎ নির্মাণ করা নয়, নিজের সময়, সমাজ, মানুষ ও চারপাশের প্রকৃতিকেও সাহিত্যে ধারণ করা।
বাংলার ঋতুর পরিবর্তন, গ্রামের হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, নদী ও জলাশয়ের সৌন্দর্য, কৃষকের জীবন, সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ—এসব আমাদের সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও নগরায়ণের কারণে প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনের অনেক চিরচেনা দৃশ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মের লেখকদের উচিত এই পরিবর্তনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং বাংলার আবহমান প্রকৃতি ও মানুষের জীবনকে সাহিত্যকর্মে ধারণ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন আমাদের সাহিত্য সমৃদ্ধ হবে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও নিজেদের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
সিলেটের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার প্রাণকেন্দ্র কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের ১২৮৯তম নিয়মিত সাপ্তাহিক সাহিত্য আসরে আলোচনাকালে আলোচকগণ উপরোক্ত কথা বলেন। ১ অক্টোবর ২০২৬ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর দরগাহ গেইটস্থ কেমুসাসের সাহিত্য আসর কক্ষে সংসদের সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক কথাসাহিত্যিক-ছড়াকার কামরুল আলমের সভাপতিত্বে ও কবি এস এম ফাহিমের সঞ্চালনায় আসরে
আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সংসদের আল ইসলাহ সম্পাদক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস, কবি মাহফুজ জোহা ও কবি ছয়ফুল আলম পারুল।
আসরের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কবি কামাল আহমদ। স্বরচিত লেখা পাঠে অংশগ্রহণ করেন আতাউর রহমান বঙ্গী, সাজন আহমদ সাজু, লোকমান আহমদ, কামাল আহমদ, কবির আশরাফ, লবিদ হোসেন চৌধুরী, আশরাফ হাছীন জারিফ, মুহাম্মদ আব্দুল ক্বাদীর জিলানী, মো. আব্দুল্লাহ, কবির মাহমুদ, ইমামুল ইসলাম রানা, মুজাহিদুল ইসলাম, রাজিয়া সুলতানা, লিলু মিয়া, মো. ফয়সাল আহমদ প্রমুখ। গান পরিবেশন করেন বাহাউদ্দিন বাহার ও কুবাদ বখত চৌধুরী রুবেল ও আশরাফ হাছীন জারিফ। সেরালেখক মনোনীত হন কবির মাহমুদ।