চার নভোচারীকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস) এর উদ্দেশে যাত্রা করেছে স্পেসএক্সের রকেট। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে ফ্যালকন-৯ রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
চার সদস্যের এই দলে রয়েছেন দুই আমেরিকান নভোচারী, একজন কানাডীয় নভোচারী ও একজন রুশ মহাকাশচারী। আইএসএসে পৌঁছে তারা মানবদেহের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণা করবেন। এর মধ্যে মহাকাশের কম মধ্যাকর্ষণের কারণে রক্ত চলাচল ও রক্ত জমাট বাঁধার ওপর কী প্রভাব পড়ে, তা নিয়েও গবেষণা করা হবে।
রকেটটির সঙ্গে ছিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, উৎক্ষেপণের প্রায় তিন মিনিট পর ফ্যালকন-৯-এর পুনর্ব্যবহারযোগ্য নিচের অংশটি রকেট থেকে আলাদা হয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। আর উপরের অংশটি ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুলকে কক্ষপথে নিয়ে যাবে।
উৎক্ষেপণের প্রায় নয় মিনিট পর ক্যাপসুলটি কক্ষপথে পৌঁছানোর কথা। এরপর প্রায় আট ঘণ্টার যাত্রা শেষে পৃথিবী থেকে প্রায় ২৫০ মাইল ওপরে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
‘ক্রু-১৩’ নামে পরিচিত এই মিশনটি ২০২০ সালের মে মাসে আমেরিকান নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো শুরু হওয়ার পর স্পেসএক্সের মাধ্যমে নাসার ১৩তম দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ স্টেশন মিশন।
মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী নাসার নভোচারী ও ভূতত্ত্ববিদ জেসিকা ওয়াটকিন্স। এটি তার দ্বিতীয় মহাকাশযাত্রা। তার সঙ্গে রয়েছেন ৪৭ বছর বয়সী নাসার নভোচারী লুক ডেলানি। দলে আরও রয়েছেন কানাডার ৪৪ বছর বয়সী নভোচারী জোশুয়া কুটরিক এবং রাশিয়ার ৩৭ বছর বয়সী মহাকাশচারী সের্গেই তেতেরিয়ানতনিকভ। তাদের দুজনেরই এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা।
মহাকাশ স্টেশনে বর্তমানে থাকা সাতজনের সঙ্গে নতুন চার নভোচারী যোগ দেবেন। নতুন দলটি মানবদেহ ও কর্মক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা চালাবে। বিশেষ করে মহাকাশের কম মধ্যাকর্ষণের প্রভাবে রক্ত চলাচল ও রক্ত জমাট বাঁধার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হবে।
২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পরিচালিত হচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্টেশনটি চালু রাখার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



