সবুজ রূপান্তর আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেলবন্ধনে বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সিয়াম। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড এসডিজি চ্যালেঞ্জ ২০২৬’ এর পরিবেশবিজ্ঞান ও টেকসই উন্নয়ন বিভাগে গবেষণা উপস্থাপন করে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন তিনি।
নিজের গবেষণা দল ‘সজারু’র হয়ে আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের এই শিক্ষার্থী। দেশের মাটিতে জাতীয় পর্যায়ের আসরে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান তিনি।
জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার সাইবারজায়ায় অবস্থিত মাল্টিমিডিয়া ইউনিভার্সিটিতে (এমএমইউ) অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক পর্ব। পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর সিয়ামের হাতে স্বর্ণপদক তুলে দেন মালয়েশিয়া ইয়াং সায়েন্টিস্টস অর্গানাইজেশনের (মাইসো) ড. হাজি রাজমি বিন আবদুল রাজাক।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি ১৩ (ক্লাইমেট অ্যাকশন বা জলবায়ু কার্যক্রম) কে সামনে রেখে পরিচালিত সিয়ামের গবেষণার শিরোনাম ছিল ‘ডিকোডিং দ্য গ্লোবাল গ্রিন ট্রানজিশন: এআই-বেসড মেজারমেন্ট অব ট্রানজিশন ন্যারেটিভস অ্যান্ড দেয়ার ইমপ্লিকেশনস ফর ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি’।
গবেষণায় বৈশ্বিক সবুজ রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের দেওয়া প্রতিশ্রুতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতিকে গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করে রূপান্তর-সংক্রান্ত বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির এই সবুজ রূপান্তর প্রক্রিয়ার সাথে আর্থিক স্থিতিশীলতার সরাসরি সম্পর্ক কীভাবে কাজ করে তাও প্রযুক্তি ও অর্থনীতির নিখুঁত মেলবন্ধনে তুলে ধরেছেন সিয়াম।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, দেশের জাতীয় পর্যায় পেরিয়ে বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটাই ছিল আমার কাছে অনেক বড় এক সম্মানের বিষয়। আর সেখানে স্বর্ণপদক অর্জন আমাদের দীর্ঘদিনের কাজের অত্যন্ত অর্থবহ একটি স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। এই সাফল্য আমাকে ভবিষ্যতে গবেষণায় আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার প্রবল অনুপ্রেরণা জোগাবে।
গবেষণার নেপথ্য ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে গ্রিন ট্রানজিশন নিয়ে দেশগুলোর যে প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবিক অগ্রগতি রয়েছে, সেটিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও প্রযুক্তিভিত্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। এআই-এর মাধ্যমে এটি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই গবেষণাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।



