আদালতে বিচারাধীন জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে বসতবাড়িতে দখলের চেষ্টা, হামলা ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়ার পরও বিরোধপূর্ণ জায়গা দখলের চেষ্টা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদেদেউলি গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে সিএনজি অটোরিকশাচালক জুবায়ের আহমদ। শনিবার (৩ অক্টোবর) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে জুবায়ের বলেন, বাদেদেউলি গ্রামের দেউলি মৌজার বিএস খতিয়ান নং ১৩১৮, দাগ নং ৩০৮৯-এর জমিতে ১৯৫৯ সাল থেকে তাদের পূর্বপুরুষেরা বসবাস করে আসছেন। একই গ্রামের মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা ১৯৮৪ সালে তাদের বাড়ির পাশে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।
জুবায়েরের দাবি, ২০২৩ সালে তিনি মূল বাড়ির কিছুটা নিচে নতুন ঘর নির্মাণ করেন। ২০২৬ সালে মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা ওই ঘরের বারান্দার অংশের প্রায় এক ডেসিমেল জমি ২০১২ সালে তার বাবা আব্দুস সোবহানের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকায় কেনার দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং বিরোধপূর্ণ জায়গায় আদালতের স্থিতাবস্থা রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
জুবায়ের অভিযোগ করেন, আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফা ও তার পক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময়ে বিরোধপূর্ণ জায়গায় প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। বহিরাগত লোকজন নিয়ে এসে হুমকি, গালাগালি ও মারমুখী আচরণ করারও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, প্রায় এক মাস আগে বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে ঘটনাস্থলে যান সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক। সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের দাবি করেন, সংসদ সদস্য উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলায় না জড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।
এরপরও গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘিলাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রুহুল আমিন রুফুল, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গনি তাজিবুর, কৃষকদল নেতা তারেকসহ কয়েকজন মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার পক্ষ হয়ে লোকজন নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন বলে অভিযোগ করেন জুবায়ের। এ সময় পরিবারের নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
জুবায়েরের অভিযোগ, ওই সময় মিসবাহ উদ্দিন মোস্তফার ছেলে আতাউর রহমান সুহেল ও তার সঙ্গে থাকা এক অজ্ঞাত যুবক তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী সাদিকা সুলতানের গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার স্ত্রী পড়ে গিয়ে আহত হন।
এর আগে গত ৬ আগস্টও জমি দখলের চেষ্টা এবং তার স্ত্রী ও বাবাকে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন জুবায়ের। এ ঘটনায় ১০ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জুবায়ের বলেন, তারা কোনো সংঘাতে যেতে চান না। আদালতের বিচারাধীন জমি বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তিই তারা চান। একই সঙ্গে ৬ আগস্ট ও ২৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।



