দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট ও স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য। শহরে বাড়ছে বাসাভাড়াও। অথচ এসব ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এর সঙ্গে বেড়েছে গাড়িভাড়া, রিকশাভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়। ফলে সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। বাড়তি খরচের ধাক্কা আসছে বাড়িওয়ালা, সবজি বিক্রেতা, দোকানি ও রিকশাচালকদের কাছ থেকেও। সব দিক থেকেই বেসামাল হয়ে পড়েছে জনজীবন।
তেল-গ্যাসে ভর্তুকি কমানোর অজুহাতে দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় মানুষের জীবনে বিরাজমান অভাব আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। এতে অভাব-অনটনের পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও বাড়ছে।
সীমিত আয়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবজি, মাছ, মাংস, চাল ও তেলসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো সংসারের চাকা চলছে না। শুধু সীমিত আয়ের মানুষই নয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বড় ধাক্কা লেগেছে দিনমজুর থেকে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এমনকি উচ্চবিত্তের জীবনেও।
বাজারে ভালো মানের চালের কেজি ৬০ থেকে ৯০ টাকা। মোটা চালও ৫০ টাকার কমে মিলছে না। ওএমএসের চালও অপ্রতুল। কিছুদিন আগেও জিম ও আলুভর্তা দিয়ে দুবেলা ভাত খেতে পারলেও এখন জিমের দামও স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সবজিও মধ্য ও উচ্চবিত্তের খাবারে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
সবজির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা সবজির দোকানে যেতেও ভয় পাচ্ছেন। বাজারে তুলনামূলক কম দামের সবজি ঝিঙা ও মিষ্টিকুমড়ার কেজিও ৫০ টাকা। অন্য সবজির দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকার কমে নেই। এ অবস্থায় অনেকের প্রশ্ন—এভাবে চললে মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে?



