স্বপ্নের আমেরিকা সফর-৫

২ অক্টোবর ২০২৬ সকাল সাড়ে এগারোটায় নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় রেল থেকে নেমে চাচাতো ভাই রাশেদুজ্জামান’র বাসায় যাওয়ার জন্য সড়কে হাঁটার সময় একজন লোক উচ্ছ্বসিত হয়ে আমার নাম ধরে ডাকলেন, কোলাকুলি করলেন। তিনি হলেন ফারুক আহমদ, সিলেটের রিকাবীবাজার আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করতেন। একযুগ হয় দেশে যাওয়া হয়নি। ফারুক ভাই বললেন ফেইসবুকে আমার নিউইয়র্ক আসার কথা দেখেছেন, এভাবে যে দেখা হয়ে যাবে চিন্তাও করেন নি। তার কাজে যাবার ও আমার ঘরে ফেরার তাড়া থাকায় বেশিক্ষণ কথা বলা যায় নি।

পুরনো একজন স্বজনের সাথে ২০ বছরের অধিক সময় পর নিউইয়র্কে দেখা হয়ে খুবই ভালো লাগলো। আনন্দের মুহুর্তে ছবি তুলে দেন চাচাতো ভাই মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান। ফারুক ভাই আলাপের সময় সিলেটের রাজা ম্যানশনের সাবেক ব্যবসায়ি মোঃ আব্দুল মালেক ভাইয়ের কথা বলেছিলেন, জুমার নামাজের পর তাঁর সাথেও দেখা হলো।

জেএফকে থেকে এয়ার ট্রেনে জ্যামাইকা, এরপর দুই ট্রেন বদল করে আমরা বাসায় পৌছলাম। প্রথম দিনে নিউইয়র্কের রেল ব্যবস্থার একটা প্রাথমিক ধারণা দিতে রেল কর্মকর্তা চাচাতো ভাই রাশেদ (সাবেক কর্মকর্তা বাংলাদেশ বিমান) জেএফকে থেকে আমাকে এভাবে বাসায় নিয়ে গেলেন। নিউইয়র্ক রাজ্যে Metropolitan Transportation Authority (MTA) এর অধীনে Newyork City Transit, Long Island Rail Road চলাচল করে। Metro North ট্রেন নিউইয়র্ক থেকে কানেকটিকাট রাজ্যে যায়।

দুপুর দেড়টায় বাসার পাশেই সুন্দর মসজিদে ( Islamic Circle of North America (ICNA) Masjid) প্রথম জামাতে জুমার নামাজ আদায় করি, এ মসজিদে জুমার দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদে কয়েকজন বাংলাদেশি (ফেনী ও লক্ষীপুর জেলার বাসিন্দা) লোকের সাথে কথা হয়। নিউইয়র্কে বাসা ভাড়া অত্যাধিক, ২ রুমের বাসা ভাড়া মাসিক দুই হাজার ডলার। বিকাল সাড়ে চারটায় ঘরে আসরের নামাজ পড়ে নিউইয়র্ক সিটির দর্শনীয় স্থান দেখতে জ্যামাইকার ৮৯ এভিনিউর ১৬৬-৪০ বাসা থেকে আমরা দু’জন (রাসেদ ও আমি) বের হই।

নিউইয়র্ক সিটির কমিউটার ট্রেন চড়ে আমরা Roosevelt Island স্টেশনে নেমে Roosevelt Island ও Queens Boro Bridge দেখে এলাম, Tramway চড়ে East River পাড়ি দিয়ে ম্যানহাটন গেলাম। ম্যানহাটনের সুউচ্চ টাওয়ার বিল্ডিংয়ের সমারোহ, অতীব পরিকল্পিত সুন্দর সড়কে কিছুক্ষণ হাঁটলাম। মেট্রোরেল স্টেশনের বাহিরের বেঞ্চে বসে আমরা মাগরিবের নামাজ আদায় করে নেই। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ছিল সন্ধ্যা ৬টায় কিছুক্ষণ বৃষ্টি হবে, হলোও তাই, আমরা নিরাপদ স্থানে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। বৃষ্টি থামলে আমরা আবার মেট্রোরেল চড়ে Brooklyn Bridge City Hall সাবওয়েতে নামি। পৃথিবীর নানা দেশ থেকে আসা শত শত পর্যটকের পায়ে হেঁটে ব্রুকলিন ব্রিজ ঘুরে দেখি।

এটি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা। ব্রিজের উপরে পিলারে লাগানো নামফলক লেখা রয়েছে The Brooklyn Bridge (1867-1883), The largest suspension bridge in the world. নিউইয়র্কের East নদীর উপর ব্রিজটির ডিজাইন ও নির্মাণ করেন John A Roebling ও তাঁর পুত্র Washington A. Roebling. East নদীর ওপরে নিউইয়র্ক সিটি অসংখ্য ব্রিজ রয়েছে। ব্রুকলিন ব্রিজ থেকে দাড়িয়ে আমরা সুউচ্চ ফ্রিডম টাওয়ার (সাবেক টুইন টাওয়ার) দেখি, ছবি তুলি। ব্রুকলিন ব্রিজ দেখে নিচে নেমে এসে দেখি ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা নানান জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন। সেখানে আমরা দু’জন পাইনাপেল ভেনিলা ফ্লেভারের আইসক্রিম খাই। এরপর আবার ট্রেনে ছুটি টাইম স্কয়ারের পানে। নিউইয়র্কে রাতের আলো ঝলমলে টাইম স্কয়ার এলাকা দেখতে গভীর রাত লোকজন অবস্থান করে।

টাইমস স্কয়ারের নানান প্রান্তে সাদা কালো মানুষের শারীরিক কসরত প্রদর্শন, সাপসহ হরেক রকম পশু জড়িয়ে ধরে চলাফেরা এসব করে মানুষকে বিনোদন দিয়ে সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। টাইমস স্কয়ারে ইলেক্ট্রিক রিকশা, সাইকেল চালনা, গতি দিয়ে মোটর কার চলাসহ নানানরকম বিনোদনে ব্যস্ত থাকে লোকজন। টাইমস স্কয়ার সাবওয়েতে বসে গায়কদের সংগীত ও বাদ্য বাজনার মেলা।

সবাই ব্যস্ত পর্যটকদের মনোরঞ্জন দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে। রাত দশটায় টাইমস স্কয়ার থেকে বের হয়ে ট্রেন বদল করে জ্যামাইকার ৮৯ এভিনিউর ১৬৬.৪০ নম্বর বাসায় এগারোটার পর ক্লান্ত শরীর নিয়ে পৌঁছে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫