যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গেলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান স্থানীয় সময় ৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে খোকনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর থেকে খোকনের কোনো সন্ধান মিলছিল না। পরিবার, বন্ধু ও পরিচিতজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়েও কাউকে পায়নি।
পরবর্তীকালে জানা যায়, খোকনকে আগেই নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাঁর পরিচয় এবং স্বজনদের বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহটি নিউইয়র্ক সিটির ‘অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার’ (ওসিএমই)-এর কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে মরদেহটি ব্রুকলিনের ৫৯৯ উইনথ্রপ স্ট্রিটে অবস্থিত ওসিএমই-এর ফরেনসিক প্যাথলজি অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস সেন্টারে রয়েছে।
জ্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ ছিলেন খোকন
প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো খোকনের দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। তিনি কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একা বসবাস করতেন। জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্তোরাঁর পাশে অবস্থিত অবকাশ স্টোরে কাজ করার সুবাদে স্থানীয় বাংলাদেশিদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি মাগুরা জেলা সোসাইটি এবং যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন।
নিখোঁজ ও ‘আইসের হাতে আটক’ গুঞ্জন
গত ৩ অক্টোবর থেকে খোকনের সাথে সবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্মস্থল কিংবা বাসায় তাঁকে না পেয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ৪ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত তাঁর মোবাইল সচল থাকলেও কেউ রিসিভ করেনি। ৫ অক্টোবর পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙেও তাঁর ফ্ল্যাটে কাউকে পায়নি। এর মধ্যে তিনি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর হাতে আটক হয়েছেন কি না—এমন গুঞ্জনও ছড়ায়। তবে হাসপাতাল ও মেডিকেল এক্সামিনারের কাছে তাঁর মরদেহ শনাক্ত হওয়ায় সেই জল্পনার অবসান ঘটল।
মৃত্যুর কারণ এখনো অস্পষ্ট
তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন বলে কিছু সূত্রে জানা গেলেও তাঁর মৃত্যু কীভাবে হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা মেডিকেল প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিউইয়র্ক সিটির ওসিএমই মূলত অস্বাভাবিক, আকস্মিক বা অজ্ঞাত মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখে। তাই ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ ও সময় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে খোকনের মৃত্যুর খবরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহকর্মীরা আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গ্রহণ ও দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।



