সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বৃহস্পতিবারের দুই হামলায় তিন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম হামলাটি বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনায় চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সৌদিয়ার একটি উড়োজাহাজ।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কারও আঘাত সামান্য, আবার কারও অবস্থা গুরুতর। হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে এবং আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করে, তারা দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে। একই দিনে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর নাজরানের একটি বিমানবন্দরেও হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি। এ ছাড়া খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথাও জানায় তারা। তবে নাজরান বিমানবন্দরে হামলার দাবি সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।
ইয়েমেনে পুনরায় শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের কারণে রাজ্যটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হুতিরা। অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে হুতিদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখলে সহায়তা করছে সৌদি আরব।
সৌদি কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আবহা বিমানবন্দরে হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ হামলায় হতাহতের ঘটনা দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। এমনিতেই আঞ্চলিক যুদ্ধ ও অস্থিরতায় বিপর্যস্ত অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আরও কয়েকটি দেশ সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



