কবি দিলওয়ার : মৃত্যুর মিছিলে জীবনের দীপ্ত তরবারী

‘মৃত্যুর মিছিলে তুমি জীবনের দীপ্ত তরবারী’—কবি দিলওয়ারের এই অম্লান পঙ্‌ক্তি আজও যেন প্রতিধ্বনিত হয় সুরমার বাতাসে। বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ, গণমানুষের কবি দিলওয়ারের ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১০ অক্টোবর। ২০১৩ সালের এই দিনে সিলেট নগরের ভার্থখলার নিজ বাসভবন খান মঞ্জিল-এ তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর প্রয়াণদিবসে সুরমা তীরের এই বরেণ্য কবিকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে দেশের সাহিত্যপ্রেমী মানুষ।

১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলাস্থ পৈতৃক নিবাস খান মঞ্জিল-এ জন্মগ্রহণ করেন কবি দিলওয়ার। তাঁর পিতার নাম মৌলভী মোহাম্মদ হাসান খান এবং মাতার নাম মোছাম্মৎ রহিমুন্নেসা। ১৯৫২ সালে সিলেটের রাজা জিসি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯৫৪ সালে এমসি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন তিনি। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে রাজধানীতে এসে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ১৯৬৭ সালে দৈনিক সংবাদে এবং পরবর্তীতে ১৯৭৩-৭৪ সালে দৈনিক গণকণ্ঠে সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দীর্ঘকাল উদীচী ও খেলাঘর আসরের সিলেটের সভাপতির দায়িত্ব পালনসহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৪ সালে সিলেটে ফিরে আমৃত্যু তিনি লেখালেখিতে নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যজগতে তিনি রেখে গেছেন অমর সব সৃষ্টি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— জিজ্ঞাসা, ঐকতান, উদ্ভিন্ন উল্লাস, পূবাল হাওয়া, স্বনিষ্ঠ সনেট, ফেসিং দ্য মিউজিক, রক্তে আমার অনাদি অস্থি, সপৃথিবী রইবো সজীব, দুই মেরু দুই ডানা, অনতিত পংক্তিমালা, বাংলা তোমার আমার, বঙ্গবন্ধু, আমি তোমার পেশাদার মিত্র নই, নির্বাচিত কবিতা ইত্যাদি। সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০০৮ সালে মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদক লাভ করেন।

মৃত্যুবার্ষিকীতে কবির পৈতৃক ভিটায় গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। পরিবারের সদস্যরা সবাই দেশের বাইরে থাকায় বর্তমানে বাড়িটিতে ভাড়াটেরা বসবাস করছেন। তবে কবির অনুপস্থিতি বা পরিবারের দূরবর্তী অবস্থান ভক্তদের ভালোবাসায় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই কবির বাড়ির উঠানে জড়ো হন ভক্ত ও অনুরাগী।

উঠানের মাঝখানে হাফ দেয়াল ঘেরা ও সাদা দেওয়ালযুক্ত কবির সমাধিমূল ঘিরে যেন প্রকৃতির অন্যরকম এক মায়াবী পরিবেশ বিরাজ করছে। কবরের পাশে থাকা আম, কাঁঠাল ও বড়ই গাছগুলোর স্নিগ্ধ ছায়া যেন পরম যত্নে ঢেকে রেখেছে কবির চিরনিদ্রার স্থানটিকে। দিনভর ভক্ত-অনুরাগীরা সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, মোনাজাত করেন এবং কবির আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। সুরমার এই মহান কবি শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে না থাকলেও তাঁর অমিয় সৃষ্টি ও ভক্তদের এই নিখাদ ভালোবাসা প্রমাণ করে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫