স্বপ্নের আমেরিকা সফর-৭

নিউইয়র্কেের ব্রঙ্কসে চাচাতো ভাই তুহিনের বাসায় আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬ সকালে ঘুম থেকে ওঠে মেসেঞ্জারে একই এলাকায় বসবাস করা ফজলুর রহমান চৌধুরী স্যারকে আমার অবস্থান জানান দেই। তিনি দ্রুত তাঁর এড্রেস পাঠাান। Bronxwood Avenue Bronx 10469 Ny’র বাসায় গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত ডিজিএম, হলুদ দলের সবসময়ের সেরা চেয়ারম্যান জনাব ফজলুর রহমান চৌধুরী স্যারের বাসায় পৌছি, সকালের নাস্তা করি। প্রিয় ভাবি বাংলাদেশ বেতার, সিলেট এর সাবেক সংবাদ পাঠিকা এলিজা চৌধুরী তাঁর মনের মতো সাজিয়েছেন বাড়িটি, সিলেটে বাংলাদেশ ব্যাংকে নিবাসের বাসাটিও তিনি সাজিয়ে রাখতেন। এসময় স্যারের ছোট ছেলে ফাইয়াজ চৌধুরী ও আমার চাচাতো ভাই সারওয়ার আহমদ চৌধুরী তুহিন উপস্থিত ছিল। সেখান থেকে স্যার আমাদের তাঁর কর্মক্ষেত্র সোনালি ব্যাংক এক্সচেঞ্জ, ব্রঙ্কস নিয়ে গিয়ে দেখালেন।

আজ সকালে আমরা (ছোট চাচি সুলতানা চৌধুরী ও তুহিন) যাই নিউজার্সিতে। জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজ দিয়ে হার্ডসন রিভার পাড়ি দিয়ে আমরা নিউজার্সির ক্লিফটনে ফুটবল গুরু Akhlaqul Ambia Choudhury শায়েস্তা ভাইয়ের বাসায় পৌঁছি৷ আশির দশকে হার্ডসন নদীতে আমাদের কবি বাচিকশিল্পি সালেহ আহমদ খসরু তাঁর কবিতার পান্ডুলিপি ছুড়ে ফেলার কথাটি মনে পড়ে যাওযায় নদীর দিকে গভীর মনোযোগ নিয়ে তাকিয়ে থাকি। শৈশব কৈশোর তারুণ্যের প্রিয় আবাসভূমি আম্বরখানা কলোনির আমরা সবাই প্রাক্তন বাসিন্দা, সবাই একে অপরের আত্মার আত্মীয়। শায়েস্তা ভাই বাংলাদেশ কাস্টমসের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রাক্তন ফুটবলার, এ্যাথলেট ও রেফারি, তাঁর সহধর্মিণী শাহনাজ বেগম চৌধুরী, পুত্র তোহুদুল আম্বিয়া তানিন চৌধুরী, নাতি ইহান চৌধুরী’র সাথে সারাদিন আমরা আলোচনা স্মৃতিচারণ করে কাটালাম। শায়েস্তা ভাই আমাদের দুই প্রজন্মের ভাই, আমার চাচা জহির উদ্দিন চৌধুরী ও একেএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর সাথে সম্পর্ক ছিল ভাইয়ের, আমরা তাঁর অধীনে যারা খেলেছি তারা ভাই বলে ডাকি। চাচাতো ভাই তুহিন তাঁকে মামা ডাকে।

আমাদের ডাক শোনে ছোট থাাকতে তানিনও বাবাকে ভাই বলে ফেলতো, এটা অনেকটা নির্বাচনের প্রার্থীর অবস্থার মতো ছিল, বাবার ভাই, ছেলেও ভাই, শায়েস্তা ভাই।

নাস্তা করে নিউজার্সির নিউজার্সি গ্র্যান্ড হিল ঘুরে দেখি। সুউচ্চ টিলা থেকে নিউজার্সির পেটারসন শহরের সুন্দর সুন্দর বাড়িঘরের ভিউ দেখি। হিল পার্কের বিশাল মাঠ খালি পড়ে রয়েছে। তানিন চৌধুরী জানাল লোকাল ডমিনিক লোকজন বেসবলের মাঠ করতে চেয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ শাসনামলে এ মাঠে তাঁরা ক্রিকেট খেলতো, ক্রিকেটের জন্য মাঠটি উইল করে রেখে যাওয়ায় লোকাল গভর্নমেন্ট অথরিটি আর বেসবলের জন্য অনুমতি দেয়নি। সেখান থেকে আমরা Mary Ellen Kramer Great Falls Park এ যাই, পার্কের পাশেই রয়েছে একটি স্টেডিয়াম। তানিন বলল বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল এ মাঠের ঘাসে বসে বড় পর্দায় দেখেছে। গাড়িতে চড়ে আমরা নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম দেখি, ২০২৬ বিশ্বকাপ এখানে হয়েছিল।

প্যাটারসন গ্রেট ফলস, ইষ্ট অব দি মিসিসিপির দ্বিতীয় বৃহত্তম ওয়াটারফল, উচ্চতা ৭৭ ফুট। এখানে দেখা হয় সিলামের এক যুবকের সাথে। নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া যাবার রোড ৮০ দিয়ে আমাদের গাড়ি কিছুক্ষণ চলে, এটি আমেরিকার দীর্ঘতম হাইওয়ে রোড, হাইওয়ে দিয়ে যেতে লাগবে এক সপ্তাহ। ফেরার পথে শায়েস্তা ভাই বাঙ্গালি অধ্যুষিত পেটারসন বাজারের বিসমিল্লাহ রেস্টুরেন্ট থেকে একটি স্পেশাল ডিশ কিনলেন। শায়েস্তা ভাইয়ের বাসায় হেভি লাঞ্চ ও ডেজার্ট করে সবাই ক্লান্ত। আমরা ছুটে চলি পেটারসনের এরাবিক এরিয়ায়, সেখানে অপেক্ষায় রয়েছেন আম্বরখানা কলোনির প্রিয়জন আশরাফুল হক চৌধুরী (ওয়েস ভাই) অপেক্ষা করছেন, কাজ থেকে ফিরেছেন বিকাল ৩টায়। ভাবির হরেক রকম পিঠার পসরা আমাদের সামনে, পেটের ভয়াবহ অবস্থার তাকিয়ে দেখা ছাড়া আমাদের করার কিছু ছিলনা। ওয়েছ ভাইয়ের চাপাচাপিতে কযেকটি খেয়ে খুবই স্বাদ অনুভব করলাম। ওয়েস ভাইয়ের বাসা থেকে বের হয়ে পেটারসনে আদম মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করি। সেখানে দেখা হলো সিলেটের রামেরদীঘিরপাড়ের সাবেক ইয়াংজিং চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক সালেহ আহমদ বোরহান মামার সাথে। তিনি আমাকে বি,কম অধ্যয়নকালে বিনামূল্যে একাউনটেন্সি পড়ান।

আজ নিউজার্সিতে সহপাঠী বন্ধু মুরাদের আমার সাথে মিলিত হবার কথা ছিল, ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় আর হলো না। অতীব মায়ার এক ভাগ্না’র (চিনু আপার ছেলে) সাথে কাকতালিয়বাবে দেখা হয়ে যায়। নামাজ শেষে পাশেই থাকা তালতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরীর বাসায় যাই, ভাবি তাহমিনা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বুবলি’র মজাদার নাস্তা পরিবেশন করেন। ভাবির বাড়ি জকিগঞ্জের গণিপুরে, সেখানে আমার তিন মামাতো বোনের বিযে হয়েছে, আমার সহপাঠী বন্ধু আব্দুল্লাহ’র শ্বশুরবাড়ি গনিপুরে, তিনি সবাইকে চিনেন, একজন তাঁর চাচি। শায়েস্তা ভাইয়ের বাসায় পৌছে দেখা হলো আহমেদ মাহমুদ চৌধুরী সুহেল মামার সাথে, তিনি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে অবসরে গেছেন। আমাদের নিউইয়র্কে ফেরার তাড়া, জ্যামাইকায় আম্বরখানা কলোনির বড়ভাই নোমান ভাইয়ের বাসায় নৈশভোজে অংশ নিতে হবে।

নিউইয়র্কে ফেরার সময় North Brunswick, NJ বিশিষ্ট সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী’র বাসায় যেতে হবে, বারবার ফোন করছেন, ৪০ মিনিটের ড্রাইভ। আমি ইব্রাহিম ভাইকে বললাম আসব তবে ছবি তুলেই বিদায় নিব, অনেকটা এটেনডেন্সে সই করার মতো। আসার পর ঘটলোও তাই। ছবি তুলে দেন লিভিং রুমে আগে থেকে বসা বাংলাদেশ থেকে ইউএসএ’তে বেড়াতে আসা একজন বিখ্যাত লোক। ইব্রাহিম ভাই বললেন হযতো এ ছবিগিলো দেখিয়ে একদিন তুমি বলতে পারবে এ লোক আমাদের ছবি তুলে দিয়েছিলেন। অবশ্যই তিনি খুবই অমায়িক লোক, এতো বড় একজন সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তার প্রথম পরিচয়ে আন্তরিক কুশল বিনিময় আমাকে মুগ্ধ করেছে। ইব্রাহিম ভাই আমাদের দু’জনের সাথে লিভিং রুমে বসে কথা বললেও অনলাইনে টকশোতে সম্পৃক্ত ছিলেন। সময় থাকলে আগামীকাল বা পরশু রাত নয়টায় সিলেটের সাহিত্য নিয়ে কিছু কথা বলতে আমাকে আহবান জানালেন।

প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক বিখ্যাত সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী’র নিউজার্সির বাসায় পৌঁছে আমি তাঁকে বড়ভাই ডাকলেও ফ্লোরা ভাবি (মিসেস ইব্রাহিম চৌধুরী) আমাকে ‘মামা” সম্বোধন করে বললেন লামাবাজারের নিনা, পিনা তাঁর মহল্লার বোন। এ যেন এক গভীর আত্মীযতার সম্পর্ক। ক্ষণিকের জন্য হলেও খুবই সুন্দর মুহূর্ত কাটে আমাদের।

সিলেটের আম্বরখানা কলোনির বড় ভাই নোমান ভাইয়ের জ্যামাইকা নিউইয়র্কের বাসায় মধ্যরাতে এসে লেট ডিনারে অংশ নেই। ভাবি ভাতিজা রাত জেগে আমাদের আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। নোমান ভাইয়ের ছোটভাই প্রকৌশলী আমিন চৌধুরী ঘুম থেকে ওঠে আমাদের আলোচনায় যোগ দেয়। আমার চাচাতো ভাই তুহিন চৌধুরীর সাথে নোমান ভাইয়ের প্রথম দেখা হলো আজ। ভাতিজা আমাদের ছবি তুলে দেন, আম্বরখানা কলোনির চার সাবেক বাসিন্দার ক্ষণিকের মিলন স্মৃতিময় হয়ে থাকবে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫