৫ অক্টোবর ২০২৬ নিউইয়র্ক – ওয়াশিংটন ডিসির ভোরের ট্রেন ৩৬ মিনিট বিলম্বে ৬.৩২ এর ট্রেন ৭.০৮ ছাড়লো, ইলেকট্রনিকস বোর্ডে দু দফা সময় পরিবর্তনের নোটিশ দেয়। যাত্রিদের নির্দিষ্ট কোন সীট নেই, যে কোন জায়গায় বসতে পারেন। আমরা (রাসেদ ও আমি) ২৫ দিন আগে অনলাইনে নিউইয়র্ক – ওয়াশিংটন ডিসির রিটার্ন টিকিট করি, দু’জনের ভাড়া লেগেছে ১০০ ডলার। অনডেটে রিটার্ন দ টিকেটের দাম জনপ্রতি ২০০ ডলার দেখাচ্ছে।

নিউইয়র্কে ফজরের নামাজ ৫.৪১ শুরু ৬.৫২ সূর্যোদয়। ট্রেন ধরতে আমরা ভোর সাড়ে চারটায় ঘুম থেকে ওঠে, দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে ১৬৯ সাবওয়েতে ৫.১৬’র ট্রেন ধরে, একবার ট্রেন বদল করে ছযটার আগেই পেন স্টেশনে পৌঁছি।

নিউইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি নিউজার্সি, পেনসিলভানিয়া, ডেলাওয়ার ও মেরিল্যান্ড রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে ওয়াশিংটন ডিসিতে সকাল পৌঁছে।

আমেরিকায় ওয়াশরুমকে রেস্টরুম বলে, ইন্টারসিটি ট্রেনে রেস্টরুম প্রতি দু বগির জন্য বড় পরিসরের পাশাপাশি দুটি রয়েছে। ঢুকলেই রেস্টরুম মনে হয়, বিশাল পরিসর, হাই কমোড, লিকুইড, টেপে গরম পানি, টয়লেট পেপার, টাওয়াল টিস্যু সবই রয়েছে। এরপরও যাত্রিদের যত্রতত্র ব্যবহারে কিছু বাথরুমে কমোডে জ্যাম লেগে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। ট্রেনে টিটি টিকেট চেকিং করে সিটের ওপরের সেলফে স্টিকার লাগিয়ে দেয়। ট্রেনে আলাদা বিজনেন ক্লাস, নো সাউন্ড বগি, রেস্টুরেন্টের বগি থাকে। ট্রেনে ও প্ল্যাটফর্মে সার্বক্ষণিক ওয়াইফাই চালু থাকে।

সকাল সাড়ে ১১ টায় আমটাক ট্রেন ওয়াশিংটন ডিসি স্টেশনে পৌঁছে। আজ (৫ অক্টোবর ২০২৬) সারাদিন আমরা ওয়াশিংটন ডিসির National Mall এলাকায় বিশ্বের একক পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ও জাতীয় স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখব।

একটি প্রবাদ আছে লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেস এবং ওয়াশিংটন ডিসির ‘সাদা বাড়ি’ White House’র সামনে দাঁড়িয়ে ছবি না তুললে পর্যটকরা যেন ইউকে, আমেরিকা ঘুরে গেছেন বলে প্রমাণ করতে পারবেন না।

ক্যাপিটল হিল, ইউএস ক্যাপিটল ভিজিটর সেন্টার, ওয়াশিংটন বোটানিক গার্ডেন, ওয়াশিংটন মনুমেন্ট, সুপ্রিম কোর্ট, জেফারসন লাইব্রেরি অব কংগ্রেস দেখে অনেক পথ হেঁটে হোয়াইট হাউসের সামনে এসে দাড়ালাম। এর আগে দি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেজারী ম্যােনজমেন্ট, ডোনাল্ড রিগ্যান বিল্ডিং, ফ্রিডম প্লাজা দেখা হলো। ফেরার পথ ছিলো খুবই সহজ, এটা সব জায়গায় সব দেশে হয়। ডি-৮০ মেট্রোবাসে ইউনিয়ন মেট্রো স্টেশনে চলে এলাম। ইউনিয়ন মেট্রো স্টেশন থেকে রেড মেট্রোয় মেট্রো সেন্টার নেমে অরেঞ্জ মেট্রোয় Smithsonian (National Mall) নেমে পায়ে হেঁটে ক্যাপিটল হিল এলাকার সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখা হলো। ক্যাপিপল হল সেন্টার, বোটানিক গার্ডেনে বিনামূল্যে প্রবেশ করে নির্ধারিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়।

ক্যাপিটল হল সেন্টারে ফ্রি ওয়াইফাই, রেস্টরুমের সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে। সেন্টারের বেঞ্চে বসে জোহরের নামাজ আদায় করে নেই, আসরের নামাজ পড়ি হোয়াইট হাউস যাবার পথে বিশাল ফুটপাতে বসে। সেন্টারে ওয়াশিংটন ডিসির মেট্রোরেল সার্ভিসে ৫টি কালারের ট্রেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলাচল করে। অন্য কালারগুলো হলো ব্লু, ইয়েলো ও সিলভার। আমরা ইউনিয়ন মেট্রো স্টেশন থেকে উল্টোপথের ট্রেনে ওঠে গেলে পরের স্টেশন NoMa Gallaudet U মেট্রো স্টেশনে নেমে প্রান্ত বদল করে পুনরায় রেড মেট্রোয় ওঠে মেট্রো সেন্টার স্টেশনে পৌঁছি।

ইউনিয়ন মেট্রোরেল স্টেশনটি ওয়াশিংটন ডিসি রেল স্টেশনের সাথেই। দুপুরে ওয়াশিংটন রেল স্টেশনে স্টারবাকস থেকে কফি পান ও বিকালে বিশাণ ন্যাশনাল মল এলাকা ঘুরে ওয়াশিংটন বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাশে গাড়িতে থাকা ভ্রাম্যমাণ রেস্তোরাঁ থেকে আইসক্রিম খাই।

হোয়াইট হাউস থেকে শেষ বিকেলে ফেরার পথে মেট্রো বাস -৮০ তে চড়ে (ভাড়া জনপ্রতি ২.৫ ডলার) অতি সহজেই নিউইয়র্কগামি ইউনিয়ন মেট্রোরেল স্টেশনে পৌঁছে যাই, পাশের রেল স্টেশন থেকেই ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৭.১২ সিডিউল টাইমে ট্রেন যাত্রা শুরু করে। অতীব সুন্দর রেল স্টেশন, কোন শব্দ হৈ হোল্লড় নেই। ইলেক্ট্রনিক্স ডিসপ্লেতে সব প্রদর্শন হচ্ছে। আমাদের ট্রেড ডি-১৭ থেকে ছাড়বে দেখালে আমরা ট্রেনে ওঠে পড়ি, রাত সাড়ে ১০টায় ট্রেন নিউইয়র্ক পেন স্টেশনে পৌঁছে। আমরা লং আইল্যান্ডের ট্রেন চড়ে জ্যামাইকা এবং ই ও এফ ট্রেন চড়ে ১৬৯ স্ট্রিট স্টেশনে পৌঁছে রাত সাড়ে ১১টায় বাসায় পৌঁছে যাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *