আমি সেই কালরাত্রির কথা বলছি
যে রাতে এক দঙ্গল মাংসাশী বন্য জন্তু
হামলে পড়েছিলো একটি মেষশাবকের ওপর
মেতে ওঠেছিলো নিষ্ঠুর উল্লাসে,
তাদের হিংস্র নখরের আঘাতে
ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিলো শাবকটির গোটা দেহ !

আমি সেই কালরাত্রির কথা বলছি
যখন একটি নিরীহ যুবকের আর্তনাদ
দেড়-দুই ডজন পাষাণ হৃদয় মানুষের মাঝে
সৃষ্টি করতে পারেনি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি
জাগাতে পারেনি তাদের মনে এতোটুকু করুণা !

আঘাতের পর আঘাত যখন
তার হাঁড়গোড় গুঁড়িয়ে দিচ্ছিলো
দেহের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরন ঘটিয়ে
ধীরে ধীরে নিস্তেজ করে দিচ্ছিলো তাকে,
তখনো নির্যাতনকারীরা ছিলো ভাবলেশহীন
জল্লাদের মতো,
আমি এই হৃদয়হীন পিশাচদের কাছে জানতে চাই
ছেলেটি কী অপরাধ করেছিলো তোমাদের কাছে
কী অন্যায় করেছিলো, যার জন্য
সে রাতে তোমরা হয়ে ওঠেছিলে এমন উন্মত্ত
এতো অমানবিক, নির্মম ?

সে ধার্মিক ছিলো, মাতৃভূমিকে ভালোবাসতো
দেশের স্বার্থ ছিলো তার কাছে সবার উর্ধে !
তোমরা তো তাকে ফাঁদে পড়া ইদুঁরের মতো
পিটিয়ে হত্যা করেছো
ইদুঁর মানুষের ক্ষতি করে, সম্পদ নষ্ট করে
কিন্তু সেতো কোন ক্ষতি করেনি
কোন কিছু কেড়েও নেয়নি তোমাদের,
তবে কেনো এতো নিষ্ঠুর, দানবীয়ভাবে
তোমরা কেড়ে নিলে তার প্রাণ ?

আমি সেই রাতে নিহত ছেলেটির
অশ্রুসিক্ত সহপাঠীদের কথা বলছি
যারা তাদের প্রিয় সহপাঠীর
ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত দেহ দেখে
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলো,
তার নেতিয়ে পড়া নিথর দেহ
তাদের হৃদপিন্ড দুমড়ে মুচেড়ে দিয়েছিলো।

আমি সেই কালরাত্রির কথা বলছি, যখন
এক দল হিংস্র হায়েনার চোখ
জ্বলজ্বল করছিলো অন্ধকারে, জিঘাংসায়
ছেলেটির মৃত্যুতে কান্নায় ভারী হয়ে ওঠেছিলো
সমগ্র আকাশ
শোকের আবরণে ঢাকা পড়েছিলো গোটা নগরী।

আমি সেই কালরাত্রির কথা বলছি যে রাতে
দেশের সেরা বিদ্যাপীঠের একটি হলে
‘টর্চার সেল’ নামে কুখ্যাত কক্ষে
রচিত হয়েছিলো এ যাবৎ কালের
সবচেয়ে ঘৃণিত বর্বরতা ও
পৈশাচিকতার নিষ্ঠুর ইতিহাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *