বিয়ের দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় মারাত্মক বিরোধ, আর সেই বিরোধের বলি হতে হলো ৪৫ বছর বয়সী এক যুবককে। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদরপুর এলাকায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চাচাতো ভাইদের ধারালো অস্ত্রের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। নিহত নাজিম ওই গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ধুমধাম করে অনুষ্ঠিত হয় নাজিম উদ্দিনের ছোট বোনের বিয়ে। তবে পারিবারিক কোনো কারণে বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি তার চাচাতো ভাই মাসুম মিয়ার পরিবারকে। এ নিয়ে মাসুমের পরিবারের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।

অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি মেটাতে শনিবার সকালে স্বউদ্যোগে চাচাতো ভাই মাসুমের বাড়িতে যান নাজিম উদ্দিন। তবে সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করে।

বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাসুম ও তার ভাইয়েরা উত্তেজিত হয়ে ধারালো দা ও ছুরি নিয়ে নাজিম উদ্দিনের ওপর চড়াও হয়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাজিমকে উদ্ধার করে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নাজিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তার শরীরের একাধিক স্থানে গুরুতর ও গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে।

নিহতের আরেক চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “শুধু আগের দিনের বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে সামান্য রাগের বশে মাসুম ও তার সঙ্গীরা আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করল।”

সংবাদ পেয়ে জগন্নাথপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঠিক রহস্য উদঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং হামলায় জড়িত ঘাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *