সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, সিলেট সম্প্রীতির নগরী। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। অতীতেও আমরা এই সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখেছি, এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতেও পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতির এই বন্ধন অটুট রাখতে হবে।

সোমবার সকালে (১৯ অক্টোবর) দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে অবস্থিত ৫১ পীঠের অন্যতম সতীপীঠ ‘শ্রীশ্রী মহালকক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠস্থান’ সংলগ্ন দুর্গামন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সকালে মন্দিরে মহাসমারোহে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

সিসিক প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশন সবার প্রতিষ্ঠান। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নগরবাসীর করের অর্থে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়। তাই সব ধর্মের মানুষের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। এবারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের ৮৫টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপে সিসিকের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমারী পূজাও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজন। জৈনপুরে আয়োজিত আজকের কুমারী পূজাতেও সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ সহযোগিতা করা হয়েছে। এই আয়োজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া এবং পুণ্যার্থীদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নিতে এখানে এসেছি।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা চাই সিলেট নগরের মানুষ শান্তিতে ও নিরাপদে বসবাস করবেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। রাষ্ট্রের কাছে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই বিষয়গুলো আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ধর্মীয় উৎসবগুলো যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়, সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, যুগ যুগ ধরে সিলেটের মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি গড়ে উঠেছে, তা আমাদের বড় সম্পদ। ধর্মীয় পরিচয় বা ভিন্নতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পীঠস্থান পরিচালনা কমিটির আয়োজনে এদিন ৭ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে কুমারী মাতারূপে পূজা করা হয়।

মহাপীঠের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্তী মিন্টুর পরিচালনায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস ও তাঁর সহধর্মিনী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যের সহধর্মিনী দিলারা মালিক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা ফ্রন্ট, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, জৈনপুর, শিবগঞ্জসহ এলাকার সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহাপীঠের সহসভাপতি নারায়ণ চক্রবর্তী, বিজয় কুমার দেব বুলু, অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, অ্যাডভোকেট বিপ্লব কান্তি দে মাধব, মিন্টু দাশ, যুগ্ম সম্পাদক প্রমথ দাশ, নিপেশ কান্ত দেব পিযুষ, সহসাধারণ সম্পাদক দীপংকর চন্দ্র পাল, জয়দ্বীপ চক্রবর্তী, কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত কুমার কর, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস রিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত দেব লাভলু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনোজ তালুকদার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক দীপু কুমার গোপ, প্রচার সম্পাদক পরিতোষ দেব পুলক, আপ্যায়ন সম্পাদক কার্তিক ঘোষ, সহআপ্যায়ন সম্পাদক কাঞ্চন পাল, দপ্তর সম্পাদক নয়ন দাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুমন দেব, সদস্য সুমন্ত ভট্টাচার্য, সহযোগী অধ্যাপক প্রদীপ বর্ধণ, অ্যাডভোকেট সুদীপ বৈদ্য, অমিত চৌধুরী, জনি চক্রবর্তী, প্রকৌশলী আংশুমান ভট্টাচার্য, দ্বীপক কুমার দাশ, ডা. নিখিল মালাকার, প্রভাষক নিরুপম চক্রবর্তী শুভ্র ও রিমন ধর প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *