ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সেনা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০০ জন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শাবওয়া প্রদেশের আল-আলম সেনা প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এ হামলা চালানো হয়। সরকারি বাহিনীর এক মুখপাত্রের দাবি, ইরান-সমর্থিত হুতিরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলাটি চালিয়েছে। ওই সময় কেন্দ্রটিতে নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ চলছিল।

হামলার পর প্রাথমিকভাবে ১৮ জন নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সর্বশেষ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জন হয়েছে এবং আহতের সংখ্যা অন্তত ২০০।

ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশেদ আল-আলিমি জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিরা সবাই নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাসদস্য। হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি।

আল-আলিমি অভিযোগ করেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে হুতিরা তাদের সহিংস অবস্থানের পরিচয় দিয়েছে।

এদিকে, হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতিরা। আল-জাজিরার সানা প্রতিনিধি ইউসুফ মাওরির বরাতে জানা গেছে, হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করায় ওই সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব-সমর্থিত বাহিনীর সদস্যরা যেখানে অবস্থান করবেন, সেসব স্থানকে হামলার বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ শহরের দক্ষিণাঞ্চলে আল-আকরুধ, আল-শাকাব ও আল-সারারি এলাকায় হুতিদের সদস্য, যানবাহন ও অস্ত্রশস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল। এসব সংঘাতের মধ্যে ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা জ্বালানিসংকট ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন।

ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বর্তমানে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এসব এলাকা পুনরুদ্ধারে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং এ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব। দীর্ঘদিনের এই বিরোধের জেরে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবে হুতিদের হামলাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *