সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিতে বা সেন্টারের সাথে কোন চুক্তি থেকে বিরত থাকতে সিলেটবাসীকে আহবান জানিয়েছেন প্রবাসী দুই অংশীদার। তারা হলেন,কানাডা প্রবাসী মো: এহসানুল ইসলাম চৌধুরী এবং আমেরিকা প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরী।

মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা তাদের ছোট ভাই এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরী এবং পল্লবী সেন্টারের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জবরদখল ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ এনেছেন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সুবিদবাজারের মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে কানাডা প্রবাসী মো: এহসানুল ইসলাম চৌধুরী। এসময় তার বোন আমেরিকা প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন।লিখিত বক্তব্য নিম্নরূপ :আজ আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়, গভীর উদ্বেগ এবং সত্য ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি।

আমরা প্রবাসে কষ্টার্জিত উপার্জনের মাধ্যমে দেশের সেবা করে আসছি এবং নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজ নিজ দেশে আমাদের মরহুম পিতা এনামুল ইসলাম চৌধুরীর বৈধ পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়ে এবং প্রতারক চক্রের হাত থেকে নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে গিয়ে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আপনাদের বহুল প্রচারিত গণমাধ্যমের সাহায্যে দেশবাসী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আমাদের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।

আমাদের বাবা মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরী গত ০৩ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা সিলেট শহরের সুবিদবাজার এলাকার পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হই। পরবর্তীতে গত ২৮/০৩/২০২২ খ্রিঃ তারিখে যথাযথ আইনি নিয়ম মেনে একটি রেজিস্ট্রি বাঁটোয়ারানামা সম্পাদিত হয়। উক্ত বাঁটোয়ারানামা অনুযায়ী সুবিদবাজারস্থ ব্র্যাক ব্যাংক ভবনের অর্ধাংশ এবং পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার ভূমির অর্ধাংশ আমাদের প্রাপ্য অংশ হিসেবে নির্ধারিত হয়।

আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি- সুবিদবাজার এলাকায় খতিয়ান নং-২০৩৬৫ ও ২০৩৬৮ অনুযায়ী মোট ০.৩২১৩ শতক জমি ও বাড়িতে অবস্থিত “পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার” ও চার তলা বিশিষ্ট ভবন যা ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে ভাড়া দেয়া হইয়াছে তা আমাদের ছোট ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মা বুলবুল নাহার চৌধুরী এবং তাদের সহযোগীরা অবৈধভাবে জবরদখল করে রেখেছে। আমাদের নিযুক্ত আমমোক্তার মো: আবদুল কাইয়ুম ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং গালিগালাজ করা হয়। আমরা প্রবাসে থাকায় উক্ত সম্পত্তির কেয়ারটেকার হিসেবে হাবিবুর রহমান শিবলুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আমাদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আমাদের ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী (রিমু), মাসুক মিয়া, নওশেবা ফারাহ তুনা, বুলবুল নাহার চৌধুরী পরস্পর যোগসাজশে আমাদের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া আমমোক্তারনামা (Power of Attorney) তৈরি করে।

যে সময়ে এই জাল দলিল প্রস্তুত করা হয়, সে সময় আমরা দুজনেই প্রবাসে অবস্থান করছিলাম- যা আমাদের পাসপোর্টের ট্রাভেল রেকর্ড দ্বারা প্রমাণিত। এই ভুয়া আমমোক্তারনামা ব্যবহার করে আসামিরা গত ২০২১ সাল থেকে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে ব্র্যাক ব্যাংক সুবিদবাজার শাখার প্রাপ্য অর্ধাংশ ভাড়ার আনুমানিক ১,২০,০০,০০০/- (এক কোটি বিশ লাখ) টাকা আত্মসাৎ করেছে।

এই প্রতারণার বিচার চেয়ে আমরা অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিলেটে কোতোয়ালী সি.আর. মামলা নং-৪৯৭/২০২৬ইং দায়ের করেছি। বিজ্ঞ আদালত (আদালত নং-০১, সিলেট) বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার, পিবিআই, সিলেট-কে নির্দেশ প্রদান করেছেন। পাশাপাশি বিতর্কিত আমমোক্তারনামা জব্দ এবং বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাক্ষর পরীক্ষার আদেশ দিয়েছেন।

প্রতারণা এড়াতে গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা Declaration To Revoke The General Power of Attorney সম্পাদন করেছি। এর মাধ্যমে কথিত জেনারেল পাওয়ার অব অ্যাটর্নির সকল কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে। ফলে উক্ত দলিলের ভিত্তিতে করা যেকোনো লেনদেন বা চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া মূলহোতা মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী পল্লবী কমিউনিটি সেন্টার থেকে ভাড়াবাবত কোনো টাকা আমাদের প্রদান করছেন না এবং সিলেট সদরের নালিয়া আঙ্গারুয়া মৌজার প্রায় ২৬২ শতক জমি এবং ঢাকার ধানমণ্ডি সাতে আমাদের পৈতৃক বাড়ি জবরদখল করে রেখেছে।

জালজালিয়াতির মধ্যমে ৭১/২০১০নং অছিয়তনামা তৈরি করা হইয়াছে। যা সম্পন্ন বেআইনী আনবেলিড। গত ৪/১০/২০২৬ইং তারিখে সিলেট যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালত কর্তৃক ৪নং আদেশের বলে অছিয়তনামার কার্যকরিতা জব্দ করা হইয়াছে।

আমরা যাতে ভবিষ্যতে আমাদের সন্তানদের জন্য সম্পত্তি ঝামেলামুক্ত করতে ২০২৫ সালে দেশে এসে সুষ্ঠু

বণ্টনের কথা বলি, তখন থেকেই আমাদের ভাই মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বাটোয়ারানামা অমান্য করতে শুরু করে। পরবর্তীতে গত ১৫/১০/২০২৬ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৮টায় সুবিদবাজারস্থ বাসায় অবস্থানকালে মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী ও বুলবুল নাহার চৌধুরী মোবাইল ফোনে (০১৭১১৪২৪৮৪৪, ০১৭৪৫৮৯২৬৯২) আমাদের সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারা মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা, ইন্টারপোলের পরোয়ানা ও আন্তর্জাতিক এজেন্সির ভয় দেখিয়ে আমাদের ব্ল‍্যাকমেইল করছে। এ বিষয়ে আমরা সিলেটের কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ১৬০৮, তারিখ: ১৫/১০/২০২৬) দায়ের করেছি।

প্রবাসফেরত অবস্থায় আমাদের জীবনের সরাসরি ঝুঁকি থাকায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আমাদের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি, জাল আমমোক্তারনামা তৈরি করে কোটি টাকা আত্মসাৎকারী ও ভুয়া দলিল সৃষ্টিকারী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ পুনরুদ্ধার করে এবং জবরদখলকৃত জমি ও ভবন প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া। ভুয়া হুমকি, ব্ল‍্যাকমেইল ও আন্তর্জাতিক এজেন্সির ভয় দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা, আমরা প্রবাসীরা প্রবাসে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছি এবং দেশে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠাচ্ছি। কিন্তু আজ নিজ পৈতৃক ভিটায় এসে আমরা যে প্রতারণা, জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছি, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আপনাদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমেই আমরা সুবিচার ও জীবনের নিরাপত্তা পেতে পারি।

প্রিয় সংবাদিক বৃন্দ আপনাদের মাধ্যমে সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমরা প্রবাসে চলে যাবো আমাদের অবর্তমানে দেশের সকল প্রয়োজন কাজ তদারকি করবেন এবং দেখভাল করবেন আমাদের নিয়োজিত আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও হাবিবুর রহমান শিবলু।

আমাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *