সিলেটের পুণ্যভূমির ধূলিকণায় মেধা ও মননের যে চিরায়ত দীপ্তি প্রজ্জ্বলিত, সেই ধারায় স্বকীয় আলোয় ভাস্বর এক প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব মোয়াজ আফসার। ইংরেজি ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ই মার্চের প্রভাতলগ্নে তিনি এই ধরাধামে আগমন করেন। পিতৃদেব তজম্মুল আলী এবং মাতৃদেবী ছুরেতুন্নেছা বেগমের পরম স্নেহাচ্ছাদনে ও ঔদার্যের সমীরণে তাঁর শৈশব ও কৈশোর বিকশিত হয়েছিল।

ঐতিহ্যবাহী সিলেট সদরের প্রাণকেন্দ্র—১৮ জালালী আবাসিক এলাকা, কলবাখানি, আম্বরখানা (সিলেট ৩১০০)—তাঁর স্থায়ী আবাসের ঠিকানা হলেও, মূলত তাঁর বিস্তৃতি ঘটেছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মেধাভিত্তিক সুবিশাল কর্মযজ্ঞে।

পেশাগত পরিচয়ে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। তবে প্রাত্যহিক জীবনের বৈষয়িক ব্যস্ততার ঊর্ধ্বে উঠে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধির চর্চাকেই তিনি গ্রহণ করেছেন মননশীল জীবনের প্রধান উপজীব্য হিসেবে।

সংবাদপত্রের অঙ্গনে ও সামাজিক কর্মযোগ

তথ্য ও সত্য প্রকাশের মহৎ ব্রতে ব্রতী হয়ে তিনি দীর্ঘকাল যুক্ত রয়েছেন স্বনামধন্য ‘দৈনিক সুরমা’ পত্রিকার সাংবাদিকতায়। পাশাপাশি ‘দৈনিক সুরমা মেইল’-এর বিভাগীয় সম্পাদক হিসেবে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী ও বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদনা সাংবাদিকতার অঙ্গনে বিশেষ সুখ্যাতি কুড়িয়েছে।

সমাজ ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিচর্যায় তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি অনন্য। তিনি ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় সাইক্লোন গ্রুপ, সিলেট’-এর সভাপতির গুরুদায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করছেন। এছাড়াও, বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর ‘কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট’-এর স্থায়ী জীবন সদস্য হিসেবে তিনি জ্ঞান চর্চা ও সাহিত্য আন্দোলনে নিরবচ্ছিন্ন অবদান রেখে চলেছেন।

ভ্রমণ ও অভিজ্ঞতার নিবিড় পর্যবেক্ষণে সমৃদ্ধ তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:

‘শেক্সপীয়ারের দেশে’ — এটি কেবল কোনো সাধারণ ভ্রমণকাহিনী নয়, বরং ইউরোপীয় মনন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির রূপরেখা সন্ধানে এক অনবদ্য সাহিত্যিক আলেখ্য।

সম্মাননা ও আত্মোপলব্ধি

সাহিত্যানুশীলন ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘ ড.মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড ’ এই প্রাপ্তি সম্পর্কে তাঁর আত্মোচ্চারণ যেমন বিনম্র, তেমনই প্রজ্ঞাদীপ্ত:

“‘মুমিনুল হক একাডেমি’ থেকে এই সম্মানজনক পদক লাভ আমার জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়। এহেন গুণী ও প্রাজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের এই মূল্যায়ন আমায় নতুন উদ্যমে সৃজনশীল ও গবেষণামূলক কর্মপন্থায় অব্যাহতভাবে আত্মনিয়োগ করার দীপ্ত প্রেরণা যোগায়।”

বানিজ্যিক প্রজ্ঞা, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সৃজনশীল গ্রন্থ রচয়িতা এবং সমাজ-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কাণ্ডারী—এই বহুমাত্রিক রূপের মিশেলে মোয়াজ আফসার সিলেটের বিশিষ্ট প্রাজ্বল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত।

কবির জন্য রইলো নিরন্তর শুভ কামনা।

আবুসালেহ আহমদ

সভাপতি

মুমিনুল হক একাডেমি সিলেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *