ষ্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক এম.এ. মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) উপজেলার বৃহত্তর বাদাঘাট বাজারের প্রধান সড়কে তাহিরপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একাত্মতা প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এম.এ. রাজ্জাক, দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আলম সাব্বির, কালের কণ্ঠের (মাল্টিমিডিয়া) তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আবির হাসান মানিক, দৈনিক খোলা কাগজের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি রোখন উদ্দিন প্রমুখ।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবক ও সংস্কৃতিব্যক্তিত্ব মো. আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ, গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক সংবাদের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভির (মাল্টিমিডিয়া) তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও মাল্টিমিডিয়ার পরিচালক আব্দুল মান্নান, দৈনিক নিউজ বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি মো. বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি সামায়ূন, দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ১৫ অক্টোবর রাতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি বেসরকারি আইপিটিভি রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তারা বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজারে মাদকসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি এম.এ. মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন আসামিকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
বক্তারা আরও বলেন, একের পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক এম.এ. মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলায় জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
