আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের তরুণদের চলমান আন্দোলনকে বাংলাদেশ ও নেপালে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার বিরোধিতা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর দাবি, ভারতের আন্দোলনকারীরা সহিংসতার পথ বেছে নেননি; বরং মহাত্মা গান্ধীর অহিংস সত্যাগ্রহের আদর্শ অনুসরণ করছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় কারাবন্দি সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কারের পক্ষেও বক্তব্য দেন অভিজিৎ।
তিনি বলেন, বিদেশের বিভিন্ন দেশে সংঘটিত সহিংস বিক্ষোভের সঙ্গে ভারতের বর্তমান আন্দোলনকে এক করে দেখা ঠিক নয়। ভারতের আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখেছেন এবং কারাবরণ করেও তাঁদের আচরণে সেই মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।
অভিজিৎ দিপকে বলেন, যারা ফ্রান্সের পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের আন্দোলনের তুলনা করছেন, তাঁদের উচিত দেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকেও নজর দেওয়া। তাঁর ভাষ্য, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার হাসিমুখে কারাগারে গেছেন। বেআইনিভাবে আটক করা হচ্ছে বলে জানার পরও তাঁরা শান্তি ও সম্প্রীতির পথ থেকে সরে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ বলেন, ভারতের আন্দোলনকারীদের আচরণ বিবেচনায় না নিয়ে বিদেশের ঘটনাবলির সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। তাঁর মতে, কারাবন্দি নেতারা উসকানিতে সাড়া না দিয়ে অহিংস অবস্থান ধরে রেখেছেন। তাঁদের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের কারাবরণকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করে অভিজিৎ একে নৈতিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহের আদর্শের সঙ্গে এই আন্দোলনের মিল রয়েছে। গান্ধীর মতোই সৌরভ ও আশুতোষ শান্তিপূর্ণভাবে কারাবরণ করছেন এবং এর মধ্য দিয়ে দেশের বিবেক জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ চলছে। এই আন্দোলনকে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সহিংস নাগরিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করার বিরোধিতা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।
কংগ্রেসের বক্তব্য, তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই এ আন্দোলনের লক্ষ্য বলে দাবি দলটির।
এর আগে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অভিযোগ করে, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতার আদলে ভারতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে একটি ‘ভারতবিরোধী চক্র’। বিজেপির এই অভিযোগের পরই বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচির চরিত্র নিয়ে পাল্টা বক্তব্য আসে।
সূত্র: এএনআই ও দ্য নিউজ মিল
