মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরাকের টেলিভিশন চ্যানেল আল ইখবারিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এসব কথা জানান।
আরাগচি বলেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। প্রস্তাবিত সাত দিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ পদক্ষেপের জন্য ওয়াশিংটনকে তেহরানের নির্ধারিত শর্তগুলো মেনে নিতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এসব শর্তে সম্মতি জানিয়েছে। তবে চুক্তির সঙ্গে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, যা আলোচনায় জটিলতা তৈরি করছে।
আরাগচি আরও বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ এখনো খোলা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত মেনে নিলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, অন্যান্য বিষয়ে আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার আগে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে হবে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা তৈরির কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না ইরান। তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল খাতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান।
সূত্র: যুগান্তর
