শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উন্নত পরিবেশের দাবি ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় একটি স্লোগান নজর কাড়ে। সেটি হলো- ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’।

আক্ষরিক অর্থে অনানুষ্ঠানিক স্লোগানটির তেমন কোনো অর্থ নেই। কিন্তু তারপরও বিক্ষোভকারীরা এর মাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ ও অভিযোগকে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে প্রমাণ বা সন্দেহের ভিত্তি না দেখে কেবল বর্ণ বিবেচনায় পুলিশের পক্ষপাতমূলক আচরণকে বিদ্রুপ করতে তারা স্লোগানটি ব্যবহার করেন।

আরবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ‘আল্লাহর নামে’ শুরু করা বোঝায়। মুসলমানরা কোনো কাজ শুরুর আগে এটি ব্যবহার করেন। কিন্তু ফরাসি ভাষায় এসে শব্দটি মূল অর্থ কিছুটা হারিয়ে ফেলেছে। ফ্রেঞ্জে এর অর্থ অনেকটা ‘চলো, শুরু করা যাক’-এর মতো।

অপরদিকে ‘সে লে তেনেব্র’ বলতে ‘ডার্কনেস’ কিংবা অন্ধকার ও হতাশাজনক পরিস্থিতিকে বোঝায়। সে হিসেবে স্লোগানটির অর্থ দাঁড়ায়- ‘চলো শুরু করা যাক, এটি এখন অন্ধকারে’। কিন্তু এর মাধ্যমে আসলে কোনো বার্তা স্পষ্ট হয় না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা পুলিশ বাহিনীকে বিদ্রুপ করতে স্লোগানটি ব্যবহার করেছেন। কারণ, বিক্ষোভকারীরা কীভাবে আন্দোলন সমন্বয় করছে তা বুঝতে পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চ্যাটে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল।

চলতি মাসের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম স্ন্যাপচ্যাটে কথোপকথনের একটি স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এই অভিব্যক্তিটির উল্লেখ ছিল। কথোপকথনটি ছিল মূলত একটি গ্রুপে যুক্ত হওয়ার অনুরোধ। মামাদু নামের এক ব্যবহারকারী অনুরোধটি করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘হাই, ইন দ্য নেম অব গড, ইটস দ্য ডার্কনেস। হোয়েনস দ্য ব্লকেড, ওয়াল্লাহ, ব্রো?’

ওই লেখায় আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি ছিল। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের গ্রুপ চ্যাটে অনুপ্রবেশের জন্য পুলিশ কর্মকর্তারাই এমন অনুরোধের বার্তা লিখেছিলেন। কিন্তু লেখায় আরবি ও স্ল্যাংয়ের (অনানুষ্ঠানিক ভাষা) মিশ্রণ থাকায় অনুরোধটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।

পুলিশের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। ফরাসি কর্তৃপক্ষও কোনো বিবৃতি দেয়নি।

ইউনিভার্সিটি অব প্যারিস ৮-এর আরব ও ভূমধ্যসাগরীয় সমাজবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ইউসুফ এল চাজলি বলেন, বাক্যাংশটি পুলিশের গৎবাঁধা ভাবমূর্তিকে আরও জোরালো করে। তারা প্রায়ই আরব ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত তরুণদের লক্ষ্য করে গৎবাঁধা কৌশল ব্যবহার করে। চলমান আন্দোলনেও এমন ব্যবহার দেখে মনে হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর ধারণা বাস্তবতা বিবর্জিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *