তাসলিমা খানম বীথি
রহিম আলী চাচার কথা যখন মনে পড়ছে তখন তিনি মাঠির নিচে। অনেকদিন হলো তিনি আর বেচে নেই। তবুও তার বিষন্নমুখ চোখে ভেসে ওঠে। কেন তা জানি না। তার সাথে আমার রক্তের কোন সমপর্ক নেই। আমাদের হসপিটালে তিনি র্দীঘদিন চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। নিয়মিত আসতেন। যারা নিয়মিত হসপিটালে সেবা নিতো তাদের সাথে প্রত্যেকের পরিবারের মতই ছিলো।
যাই হোক, চাচা চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলেও সেখানে কদিন যেতেই মারা গেলেন। চাচার না বলার ব্যথা আমাকেও ব্যথিত করেছিল। প্রতিদিনের মতই তাকে কেবিনে দেখতে যাই। ভাতিজারা তাকে দেখাশোনা করত। একদিন তাকে বলি নিজের ছেলেমেয়ে কেন দেখতে আসেন না। তিনি খুব ধীরে ধীরে বললেন তার নিজের বলে কেউ নেই। একটা সময় ছিলো। আমেরিকা প্রবাসী স্ত্রী ছিলো। পরিবারে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি প্রবাসী স্ত্রীর সাথে সেটেল হতে পারেনি। দেশে থাকলেন। সবশেষে ডির্বোস। কথা বলতে বলতে চোখেমুখে জল টপ করে পরার আগেই আমি তাকে কথা বলতে না করি।
তখন মনে হলো মানুষের জীবনে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার গল্পই বেশী থাকে। যা কখনো কেউ জানে না। আর সেই গল্প সমাপ্তি ঘটে কবর মাঠির সাথে! শেষ জীবনে মানুষের সবচে বেশি প্রয়োজন হয় প্রিয়জনের ভালোবাসা আর বেশিভাগ মানুষই সেই অভাবেই তিলে তিলে শেষ ঠিকানা চলে যায়। তাই সময় থাকতে প্রিয়জনকে ভালোবাসুন। টাকা আসবে যাবে কিন্তু আপজন হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসে না।
