আমেরিকার নিউইয়র্কভিত্তিক সুপ্রাচীন সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন মামলার কারণে শেষ মুহুর্তে স্থগিত হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রবিবার এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরীর দায়ের করা একটি মামলায় গত শুক্রবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় অবস্থিত কুইন্স কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন আয়োজনের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এই অবস্থায় দুইদিন আগে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি বিস্ফোরক পোস্ট দিয়েছেন আমেরিকায় শ্রমজীবীদের অধিকার আদায় নিয়ে সোচ্চার নারীনেত্রী কাজী ফৌজিয়া।

তিনি লিখেছেন, ‘সময় হয়েছে কথা বলবার, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের বলবো ২০ ডলারে ভোট বিক্রি করবেন না।’ তার এই পোস্টে অনেকেই তাকে সমর্থন জানিয়ে কমেন্টস করেছেন। অবশ্য কেউ কেউ যোগ্য প্রার্থীর নামও তুলে ধরেছেন।

কাজী ফৌজিয়া যুক্তরাষ্ট্রে একজন সংগ্রামী নারী হিসেবে পরিচিত। তিনি একজন নারী হয়েও যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারার রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত। এছাড়া শ্রমজীবীদের অধিকার আদায়ে তিনি সবসময়ই অত্যন্ত সোচ্চার। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন বেশকিছু তাৎপর্যপূর্ণ কথা। তার পোস্টে সোসাইটির নেতা হওয়ার জন্য কতিপয় ব্যক্তি কিভাবে টাকা খরচ করেন তা উঠে এসেছে। পাশাপাশি সোসাইটির সামাজিক কর্মকা- নিয়েও তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন। তার ফেসবুক পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘এইবার বাংলাদেশ সোসাইটির ইলেকশন নিয়ে আমি মুখ বন্ধ রেখেছি। তবে সময় হয়েছে কথা বলবার, বাংলাদেশ সোসাইটির ইলেকশন নিয়ে ভোটারদেরকে বলব- যে-ই আমাদের ভোটার বানিয়েছে এটা সে করেছে তার নিজের স্বার্থে। আমরা একবারও কি বলেছি আমাদের টাকা তোমরা দিয়ে দাও? বেশির ভাগ ভোটার এর উত্তর হবে না না! তাই ভোটারদের বলব ২০ ডলার দিয়ে ভোট বিক্রি করবেন না। আপনাদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ প্যানেল নয়, দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীদের ভোট দিন। মনে রাখবেন শুধু অভিষেক আর মরে গেলে কবর- এই নয় একটি সংগঠনের উদ্দেশ্য। এই দেশের ইমিগ্রেশন অধিকার, কাজের অধিকার, অভিবাসী সমস্যা, ইয়ুথদের সম্পৃক্ত করা, নারীদের মূল্যায়ন করা, বাংলাদেশি সমাজে ডমেস্টিক ভায়োলেন্স রোধ করা- এই সব বিষয়ে উনাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। নেতারা নিজের আইডেন্টিটি উপরে নেওয়ার জন্য টাকা খরচ করে নেতা হয়। আসুন আমরা সবাই মিলে এই ২০ ডলারে ভোট না দিয়ে দক্ষ যোগ্যদের ভোট দেই, সে যে প্যানেলেরই হউক। এত কথা বলার কারণ কী জানেন, এক গ্রুপ অপর গ্রুপকে বলছে যে তারা বেশি ভোটার বানিয়েছে সুতরাং জয় তাদের হবে। আসুন আমরা ভোটাররা নিজের অধিকার প্রয়োগ করে নিজেদের ভোট পাওয়ার তৈরি করি। আওয়াজ তুলি টাকা নয়, যোগ্যতা হল নেতৃত্বের মাপকাঠি।’

তার এই পোস্টে চৌধুরী হাসান মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন, ‘সম্পূর্ণ সহমত, আমাকে বলা হয়েছিল ১০ না ২০ ডলার দেওয়া লাগবে না, ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই হবে। আমি এটাই বুঝতে পারি নাই, এটা কিসের ভোট। আমার ১০ আর ২০ ডলারে সমস্যা নাই। গতবার জাহিদ মিন্টু ভাইয়ের পরিষদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনাদের ডেলিভারেবলস কি? এইবারও আমি চেষ্টা করছি বুঝবার। দেখি ভোট কি রকম হয়, সবাই পরিচিত মুখ, তাই মুভমেন্ট বোঝা জরুরি।’

মোহাম্মদ সোহরাব নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘সঠিক বলেছেন, উভয় পক্ষেই যোগ্য ও ভালো মানুষ আছে।’

কাজী ফৌজিয়ার পোস্টে তাকে সমর্থন করেই বেশিরভাগ মন্তব্য পড়েছে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৫ হাজার। নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেরা টাকা দিয়ে ভোটার তৈরি করেন বলে অনেক দিন ধরেই সোসাইটির বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। নিজের ভোট ব্যাংক তৈরি করতে প্রার্থীরা এটা করে থাকেন, আর সে কথাই উঠে এসেছে কাজী ফৌজিয়ার ফেসুবক পোস্টে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *