শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :
জুলাই যোদ্ধা ও বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস মৌলভীবাজার জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবং সর্বদলীয় ইসলামি ছাত্র ঐক্য পরিষদ শ্রীমঙ্গল উপজেলা শাখার আহবায়ক মো: মোজাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন গত ১৫ অক্টোবর তাকে অপহরণ করার চেষ্টায় তার উপর সন্ত্রাসী হামলা করা হয়েছিল। এই হামলার ঘটনায় তিনি সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সোমবার ২৬ অক্টোবর দুপুরে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোজাহিদুল ইসলাম তার উপর হামলা এবং অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ এনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এ্যাপলো ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখে শ্রীমঙ্গল শহরের হবিগঞ্জ রোডস্থ যাই।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডায়াগষ্টিক সেন্টারের সামনে শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের ৭নং ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ফারদিন ইসলাম পিয়ালসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জন আমার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আমাকে জোরপূর্বক অপহরণ করার লক্ষ্যে বাঁশ বাজারের দিকে নিয়ে যেতে টানাহেচড়া শুরু করে। ঘটনায় আকস্মিকতায় আমি হতবিহবল হয়ে প্রাণ রক্ষার্থে চিৎকার শুরু করলে আমার ফুফাতো বোনের স্বামী মো. ইউসুফসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
এসময় ঘটনাস্থলে আসেন শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আহমেদ জাহিদ, মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হোসেন মুন্নাসহ অন্যরা। পরে আহমেদ জাহিদ ও আল আমিন হোসেন মুন্না ইউসুফকে বলেন, মোজাহিদকে সেইভ করতে হবে। একথা বলে তারা আমার ফুফাতো বোনের স্বামীসহ আমাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নেন। অটোরিকশায় বসে আহমেদ জাহিদ আমাকে নির্দেশের সুরেই বলেন, ‘আমি বিষয়টি শেষ করে দেবো। কাউকে কিছু বলবে না। আমি তাৎক্ষণিক তাকে বলি, আমি সংগঠন করি, সংগঠনের দায়িত্বশীলদের জানাতে হবে। তখন আহমেদ জাহিদ আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, যা করার কর গিয়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে বা আইনের দ্বারস্থ হলে তোর পরিণতি খারাপ হবে।
তিনি বলেন, অটোরিকশা একটু সামনে যাবার পর গরুরবাজার মসজিদের সামনে দেখতে পাই আমাকে অপহরণের উদ্দেশ্যে ফারদিন ইসলাম পিয়ালসহ অন্যরা ওই রাস্তার পাশেই প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এতে ভয় পেয়ে আমি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে নেমে যাই এবং আমার ফুফাতো বোনের স্বামী ইউসুফ আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। ঘটনার পরে আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারি আমার উপর হামলা ও অপহরণের নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনা ছিল শ্রীমঙ্গল পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আহমেদ জাহিদেরই।
তিনি আরো বলেন, হামলা বিষয়টি আমি ছাত্রদলের সিনিয়ন নেতৃবৃন্দকে জানাই। তারা সবাই সুবিচারের আশ্বাস দিলেও কোন বিচার পাইনি। উপরন্তু আমার উপর হামলাকারীরা ও অপহরণের চেষ্টাকারীরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে চলেছে। তাদের ভয়ে আমি আমার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পরিচালনা করতে পারছি না। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।
এ ঘটনায় মোজাহিদুল ইসলাম মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য, আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় গোলাম কিবরিয়া মাসুম, মাহমুদুল হাসান নাইম, কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে আহমেদ জাহিদ এই ঘটনার সাথে তার এবং তার ছত্রদলের কারো জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন অপহরণ চেস্টার কোন প্রমান তিনি দেখাতে পারবেন না।
