সিলেট অঞ্চলে অভিযোজনভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং হাওরাঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় সেমিনার ‘ন্যাশনাল সেমিনার অন এডাপটিভ ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইন সিলেট (NSAWMS 2026)’। ২৮ অক্টোবর (বুধবার) সিকৃবি’র কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিভিএম অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুক্তারুন ইসলাম, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) পরিবেশ ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রফেসর ড. হামিদুল হক, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (সিইজিআইএস) প্রধান বিশেষজ্ঞ ড. ফারহানা আহমদ এবং শেভরন বাংলাদেশের ফিল্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ম্যানেজার খন্দকার তুসেরুজ্জামান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাস্টের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. আহমদ হাসান নূর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিকৃবি ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার বলেন, সিলেট অঞ্চল আমাদের দেশের একটি অনন্য ভৌগোলিক ও জলবায়ু সংবেদনশীল এলাকা। এখানকার অতিবৃষ্টি, ঘন ঘন বন্যা এবং হাওরভিত্তিক কৃষিব্যবস্থা এই অঞ্চলকে পানি ব্যবস্থাপনার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই অঞ্চলের সীমিত সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক গবেষণা, উদ্ভাবনী সমাধান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঞ্চিত অভিজ্ঞতার সমন্বয়।
তিনি আরও বলেন, সিলেট অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা ও হাওরের সমস্যা নিয়ে এখনো অনেক ক্ষেত্রে গবেষণা-ঘাটতি রয়ে গেছে। সেই ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো পূরণে মাঠপর্যায়ে অ্যাকশন রিসার্চ পরিচালনা করা জরুরি। গবেষণালব্ধ ফলাফল যেন কেবল প্রতিবেদন বা প্রবন্ধেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাজে লাগে, সে জন্য স্থানীয় প্রেক্ষাপটে উপযোগী অভিযোজন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনেই টেকসই সমাধান সম্ভব।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা, উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব, তরুণদের জন্য হাওরাঞ্চলে অভিযোজন ভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং আঞ্চলিক ব-দ্বীপ ও হাওরাঞ্চলের কার্যক্রম নিয়ে কারিগরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
