কেউ যদি ভাবেন শুধু  মার্কিন সিনেটের প্রথম মুসলিম সিনেটর ডাঃ আবদুল আল সাঈদ একাই অসাধারণ, তবে তা হবে ভুল। মিশিগানের ইউএস সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়া ডা: আবদুল আল সাঈদকে তো আমরা সবাই চিনলাম। কিন্তু সবাই কি জানেন, উনার লাইফ পার্টনার ডাঃ সারাহ জুকাকুও একজন আস্ত পাওয়ারহাউস? 

আবদুল বিয়ে করেছেন আরেকজন তুখোড় ডাক্তার সারাহ জুকাকুকে।  সারাহ পেশায় একজন সফল মনোরোগ বিশেষজ্ঞ , যিনি নিজের ক্লিনিক সামলানোর পাশাপাশি দুই কন্যাসন্তান ইমালি ও সেরিন-এর দুর্দান্ত জননী।

এই দুই জিনিয়াসের প্রেমের গল্পটাও একদম সিনেমার মতো! মিশিগান ইউনিভার্সিটির ‘মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’-এ কাজ করার সময় তাদের প্রথম দেখা। মজার ব্যাপার হলো, সারাহ ছিলেন সেই অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর আমাদের আবদুল ছিলেন উনার আন্ডারে ভাইস প্রেসিডেন্ট! ওখান থেকেই প্রথম দর্শনে প্রেম, আর ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ার শেষ হতে না হতেই আংটি বদল। 

মাত্র ২২ বছর বয়সে বিয়ে করে আব্দুল।  আবদুল নিজেই বলেছিলেন, “আমি ঠিক করেছিলাম লাইফে একটা মেয়ের সাথেই দেখা করব আর তাকেই বিয়ে করব। ফালতু ঝামেলা ছাড়া এটাই সম্পর্কের সবচেয়ে খাঁটি রূপ।” 

দক্ষিণ ভারতীয়  শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতিতে মিশে গিয়ে আবদুল রসিকতা করে বলেন, “ভারতীয় নারীদের মাঝে থাকতে থাকতে আমি এখন আরবের চেয়েও বেশি ইন্ডিয়ান হয়ে গেছি!”

সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, আবদুল এতটাই ম্যাচিউর ও সিকিউরড মনের মানুষ যে, সারাহ যে উনার চেয়েও মানসিকভাবে বেশি শক্তিশালীতা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন!

উনার ভাষায়,”আমি নিজে কে, তা বুঝতে স্ট্রাগল করেছি। কিন্তু সারাহ করেনি। সে তার ইমোশনকে কন্ট্রোল করতে পারত, আর আমি আমার আবেগের সাথে কুস্তি লড়তাম। আস্তে আস্তে সে আমাকেও আমার আবেগের সাথে তাল মেলানো শিখিয়েছে।”

আবদুলের বাবা মিশরীয় মুসলিম অভিবাসী হলেও উনার সৎ মা জ্যাকুলিন আমেরিকার আদি বাসিন্দা মানে আমেরিকান রেভোলিউশনের বংশধর। বড় হয়েছেন খ্রিস্টান, নাস্তিক আর মুসলিম আত্মীয়দের এক অদ্ভুত ও বৈচিত্র্যময় মিক্সড পরিবারে!

উনার পুরো নাম ‘আবদুল রহমান মোহাম্মদ এল সাঈদ’। আবদুল মজা করে বলেন, “আমার নামের ভেতরে এমন কিছু উচ্চারণ আছে যা মানুষের গলার এমন গভীর থেকে বের হয় যা তারা নিজেরাও জানে না!”

নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প উনাকে খেপানোর জন্য “আবদুল রমজান” বা “জিহাদি” বলে ডাকতেন, কিন্তু আবদুল ট্রাম্পের এই নোংরা বর্ণবাদকে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর (৯/১১) যখন টুইন টাওয়ারে হামলা হয়, তখন আবদুলের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সেই ঘটনার পর আমেরিকার মুসলিমদের ওপর যে তীব্র বর্ণবাদী ও ইসলামোফোবিক আক্রমণ শুরু হয়েছিল, তাঁর শিকার আবদুল নিজেও হয়েছিলেন। 

হাইস্কুলের তুখোড় অ্যাথলেট , ফুটবল, ল্যাক্রোস এবং রেসলিং টিমের ক্যাপ্টেন  হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে বহু কটু কথা শুনতে হতো। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিই তাঁকে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী করে এবং নিজের অধিকার ও রাজনীতি নিয়ে সচেতন হতে বাধ্য করে।

এখনই বেশি আগ বাড়িয়ে বলা ঠিক হবে না, তবে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যদি ডেমোক্র্যাটদের হাত ধরে এই জুটি হোয়াইট হাউসে পৌঁছায়, তবে আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবার একজন মেডিকেল ডাক্তারকে ফার্স্ট লেডি হিসেবে পাওয়া যাবে! বর্তমান পরিস্থিতির চেয়ে যা নিশ্চিতভাবেই এক নজিরবিহীন আপগ্রেড হবে। 

ইতিহাস গড়ার জন্য অভিনন্দন ডা: আবদুল এল সাঈদ ও ডাঃ সারাহ জুকাক!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *