মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কালজয়ী সিনেমা ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন বিজয় চৌধুরী। সেই অভিনেতা অসুস্থ হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে পিসিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
বিজয় চৌধুরীর ছেলে সাবিদ বিন আবু আজাদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) একটি দাওয়াতে যোগ দিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গিয়েছিলেন তার বাবা। সেখানে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরে দ্রুত তাকে ঢাকায় এনে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
সাবিদ বলেন, “গতকাল বৃহস্পতিবার আব্বু তার এক ভাগ্নের দাওয়াতে সিংগাইর গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই বুকে ব্যথা শুরু হয়। এরপর আব্বুকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। এখন আব্বুকে পিসিসিইউতে রাখা হয়েছে।”
এদিকে, বাবার সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন বিজয় চৌধুরীর মেয়ে ফিওনা ইসলাম। তিনি লিখেছেন, “আমার বাবা আবু আজাদ চৌধুরী (বিজয়) বর্তমানে অনেক অসুস্থ। তিনি এখন হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসাধীন। আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন। সকলের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আবেদন রইল। আল্লাহ যেন আমার বাবাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। আমিন।”
বিজয় চৌধুরী নামটি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে পরিচিত হলেও দর্শকের স্মৃতিতে তিনি মূলত ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সিনেমাটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটি প্রায় তিন দশক পরও দর্শকের কাছে সমানভাবে স্মরণীয়। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে রইছের আত্মত্যাগ দর্শকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।
রইছ চরিত্রে অভিনয়ের সময় বিজয় চৌধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। একটি চরিত্রই তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এরপর সময় গড়িয়েছে, অভিনয় থেকেও দূরে সরে গেছেন তিনি। কিন্তু দর্শকের কাছে আজও তার পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই রইছ নামটি।
১৯৭৩ সালে স্বাধীনতার পর জন্ম নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তার নাম রাখেন ‘বিজয়’। রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই অভিনেতার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। পরিচালক রায়হান মুজিবের ‘প্রেমপ্রীতি’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর আরো কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’-এর রইছ চরিত্রই তাকে এনে দেয় সবচেয়ে বেশি পরিচিতি। সিনেমাটির পর আর নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি তিনি।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৯৬ সালে সালমা চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিজয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ মনির চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এবং মা মিনা চৌধুরী গৃহিণী।



