মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার। ১৯৭৪ সাল থেকে গরিব মা ও শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছে। ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ২০০ মুখোশধারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রাখে, ওষুধ, টিকা, টাকা লুট করে, তারপর বুলডোজার দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেয়। জায়গায় টাঙিয়ে দেয় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড। যার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

এই নাটকের স্ক্রিপ্ট আগেই লেখা ছিল। ২০০৬ সালে এই সমিতির সভাপতি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তিনিই তখন এই জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন। আর এই ঘটনার পর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান মিরপুরে গিয়ে যে কথাটা বলেছিলেন, তা আজ সত্য প্রমাণিত হলো: “সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্মের সাহস কেউ করে না। গাছের গোড়া কেটে মাথায় পানি দেবেন, সর্প হয়ে দংশন করা, ওঝা হয়ে ঝাড়ার নাটক আমরা দেখতে চাই না।”

জনগণের তীব্র ক্ষোভের মুখে সরকার বাধ্য হয়েছে ব্যবস্থা নিতে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আজ দুপুরে তা নিশ্চিত করেছেন। আজই তিনি জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
এটা প্রমাণ করে যে, হামলাটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, এর পেছনে ক্ষমতাসীন এমপির সরাসরি মদদ ছিল।
প্রথমে দখল, তারপর অনুদান আর পরিষ্কার কর্মসূচির যে ‘ওঝা’ সাজার নাটক, তা ধরা পড়ে গেছে। শুধু পদত্যাগ যথেষ্ট নয় – ডা. শফিকুর রহমান যেমন বলেছেন, “কালপ্রিটদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রশ্ন হলো – একজন সংরক্ষিত এমপি যদি ১০০ কোটি টাকার হাসপাতাল রাতের আধারে গুঁড়িয়ে দিতে পারে, তাহলে দেশের অন্য হাসপাতালগুলো কতটা নিরাপদ? আজ রাড্ডা, কাল অন্য কোথাও?
এই ‘সর্প-ওঝা’ রাজনীতি বন্ধ না হলে, উন্নয়নের ডিও লেটার দিয়ে আর অনুদানের ফুল দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *