‘মরা গরুর হাড্ডির কারবারি’

মেধাবী লেখকদের মাঝেও কিছু খামখেয়ালিপনা এবং অনেক ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ও জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদও এটা থেকে মু্ক্ত ছিলেন না। তিনি সিলেটের আভিজাত্যের ধারার বাহক এবং হাওরাঞ্চলের মুক্ত ও উদার হাওয়ায় বেড়ে ওঠা প্রচন্ড আত্মমর্যাদাশীল বাউল সম্রাট আবদুল করিমকে চিনতে কিছুটা ভুল করেছিলেন। সেই ভুল সংশ্লিষ্ট ঘটনা আজো অনেকের মনে রয়ে গেছে।

“মরা গরুর হাড্ডির কারবারি” কথাটি বলেছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত বাউলসাধক ও বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম। তিনি এই কথাটি বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে বলেছিলেন।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে (সম্ভবত ১৯৯৬ সালের দিকে) হুমায়ূন আহমেদ বিটিভির একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ‘জলসাঘর’-এর জন্য শাহ আবদুল করিমকে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। সে সময় শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে অনুষ্ঠানটির শুটিং করা হয় এবং তাঁর গান রেকর্ড করা হয়।
কিন্তু শুটিং শেষে শাহ আবদুল করিমের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদ নিজে সরাসরি দেখা করেননি। বরং একজন সহকারীর মাধ্যমে তাঁকে কিছু সম্মানী বা টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হয়। এমনকি পরবর্তীতে অনুষ্ঠানটি কবে বা কখন টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে, সে বিষয়েও তাঁকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
হুমায়ূন আহমেদের এই ধরণের আচরণে শাহ আবদুল করিম মনে ভীষণ কষ্ট পান। তাঁর মতে, মানুষের কাছে টাকার চেয়ে মানুষের আত্মিক মূল্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাটাই সবচেয়ে বড়। পরবর্তীতে একটি সাক্ষাৎকারে এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও অভিমান থেকে তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, হুমায়ূন আহমেদ মানুষের কদর করতে জানেন না, তিনি মূলত একজন “মরা গরুর হাড্ডির কারবারি” (অর্থাৎ, যিনি কেবল মৃত বা বস্তুগত জিনিস নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন, জ্যান্ত মানুষের অনুভূতির মূল্য বোঝেন না)।
পরবর্তী সময়ে একটি সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে তাঁকে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে শাহ আবদুল করিম স্পষ্ট করে বলেন, এটি আসলে সেই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ও অভিমানে বলা কথা, যেখানে মানুষের মূল্যায়নের বিষয়টিই আসল ছিল।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫