সিলেটে ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে আবারও তৎপর হচ্ছে জেলা প্রশাসন। টিকিটে থাকা নামের সঙ্গে যাত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম না মিললে ট্রেনে ভ্রমণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। আগামী ১২ অক্টোবর থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

এর আগেও দেশজুড়ে আলোচিত সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে রেল স্টেশনে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে টিকিট যাচাই শুরু করেছিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই উদ্যোগ আর কার্যকর থাকেনি। তিনি সিলেট থেকে বদলি হওয়ার পর যাত্রীদের টিকিট যাচাই কার্যক্রম পুরোপুরি ভেস্তে যায়। ফলে টিকিট দখলে নেয় দালাল ও কালোবাজারিরা।

সম্প্রতি টিকিট কালোবাজারি নিয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমান। গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে করা মামলাটির (সিআর মামলা ০১/২০২৬) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে। গত ১ অক্টোবর মামলার নথি পিবিআই সিলেট কার্যালয়ে পৌঁছায়।

এ ঘটনায় ফের আলোচনায় আসে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়ে টিকিট বিক্রি ও যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ে নানা অসংগতি পায় জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে চারজন ম্যাজিস্ট্রেট এ অভিযানে অংশ নেন। অভিযানে কয়েকজন যাত্রীর টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নামের অমিলও ধরা পড়ে।

অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ১২ অক্টোবর থেকে টিকিটের নামের সঙ্গে এনআইডির নাম না মিললে কোনো যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না। সিলেট থেকে ঢাকা কিংবা অন্য কোনো গন্তব্যে যেতে হলে টিকিট ও পরিচয়পত্রের তথ্যের মিল থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, অভিযানে কয়েকজন যাত্রীর টিকিট ও এনআইডির তথ্যে অমিল পাওয়া গেছে। নিয়মটি কার্যকর করার আগে যাত্রীদের তিন থেকে চার দিন সময় দেওয়া হচ্ছে। ১২ অক্টোবর থেকে কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি নিজেও পরিচয় যাচাই করবেন এবং স্টেশনে নিয়মিত ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *