স্বপ্নের আমেরিকা সফর-৬

নিউইয়র্ক সফরের দ্বিতীয় দিন ৩ অক্টোবর ২০২৬ আমরা কিছুটা দেরি করে বাসা থেকে বের হই৷ আগেরদিনের দীর্ঘ সময়ের হাঁটা চলায় আমার গাইড চাচাতো ভাই রাশেদুজ্জামান কিছুটা অসুস্থ অনুভব করছে, বিশ্রাম নিচ্ছে। সে সুযোগে আমিও আমার আগের দিনের লেখালেখি একটু শেষ করে নিচ্ছি। চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী ফাহমিদা জামান এমি খুবই আন্তরিকতার সাথে আমাকে আপ্যায়ন করতে সকাল থেকে তৈরি করা মজাদার নাস্তা খেয়ে ভাতিজা ভাতিজি আমারা ও আবান’র সাথে কথা বলছি, ছয় বছরের আবান আমার কোলে সহজেই আসছে।

আমরা দুপুর ১২টায় ঘর থেকে বের হওয়ার আগেই ফোন দেন নিউইয়র্কের টাইম টিভির সিনিয়র সাংবাদিক ইকবাল মাহমুদ, তিনি কথা বলে আমার অবস্থান জেনে নিউইয়র্কের রোজভেল্ট আইল্যান্ড সাবওয়ের সামনে এসে দুই কন্যা সাফা ও মারওয়া’কে নিয়ে দেখা করলেন। সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, টাইম টিভির সিনিয়র সাংবাদিক প্রিযজন মোঃ ইকবাল মাহমুদ সাথে করে নিয়ে এলেন খাবারের প্যাকেট। টাইম টিভিতে যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে গেলেন, বললেন তিনি যে কোন সময় আমাকে নিয়ে পছন্দের জায়গায় গাড়ি নিয়ে যেতে প্রস্তুত আছেন। খুবই ভালো লাগলো প্রিয় ইকবাল মাহমুদ’র সাথে কথা বলে, ছবি তুলে। ইকবাল মাহমুদ একজন সৌখিন পর্যটক, পৃথিবীর নানা দেশে (এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইংল্যান্ড ইউরোপ ঘুরে তিনি এখন সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাস করছেন। তাঁর ভ্রমণগুলো দেখেই আমি অনেকটা দেরিতে বিদেশ ভ্রমণে আগ্রহী হলে প্রস্তুতি নেই এবং ফলপ্রসূ হই।

রুজভেল্ট আইল্যান্ড সাবওয়ে থেকে একটু হেঁটে আমরা নিউইয়র্ক ফেরিতে ওঠে ইষ্ট নদীর দু পারে ম্যানহাটন ও ব্রুক্নস এলাকার জাতিসংঘ সদর দপ্তরসহ নান্দনিক স্থাপনাগুলো প্রত্যক্ষ করি। পঁচিশ মিনিটের এ ফেরি যাত্রার ভাড়া জনপ্রতি সাড়ে চার ডলার, শোনেছি এটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সিটি অথোরিটি। ফেরি থেকে নেমে আমরা ফাইনান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় প্রবেশ করি, ইকবাল মাহমুদের দেয়া নাস্তা পার্কের বেঞ্চে বসে খেয়ে নেই।

Wall Street, New York এ নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ, ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, আইকনিক চার্জ, দি ট্রাম্প টাওয়ার, ফ্রিডম টাওয়ার (সাবেক টুইন টাওয়ার) ও মিউজিয়াম, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ঘুরে দেখা হলো। পুরো এলাকাকে ফাইনান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট বলা হয়, ব্যাংকের হাব, এটা বাংলাদেশের মতিঝিল এলাকার মতো।

বিকালে নিউইয়র্কের অভিজাত এলাকা ফিফথ এভিনিউ এলাকায় বিশাল জায়গা জুড়ে সেন্ট্রাল পার্ক ঘুরে দেখি, সেন্ট্রাল পার্ক বুট হাউস এলাকায় লোকে লোকারণ্য ছিল। মানুষজন ছুটে চলছে, গান বাজনা হচ্ছে। জোড়ায় জোড়ায় মানুষজন পার্কের ঘাসে বসে রয়েছে, দৌড়, হাঁটা চলছে। শিল্পীরা দশ ডলার দিয়ে মানুষের ছবি একে দিচ্ছে। আমরা (চাচাতো ভাই রাশেদুজ্জামান ও আমি) আসরের নামাজ পার্কের পাথরে বসে পড়ি। পার্ক থেকে বের হয়ে আপেল সেন্টারে ঢুকে আইফোনের মেলা ঘুরে দেখি। iPhone 18 Pro নতুন বাজারে এসেছে, ডিসপ্লেতে শোভা পাচ্ছে।

আমরা রাতে লং আইল্যান্ড এলাকায় ফুফাতো বোন রুনি হুদার বাসায় দাওয়াতে যেতে হবে। চাচাতো ভাই তুহিন গাড়ি নিয়ে জ্যামাইকায় আসবে। আমরা কয়েক দফা ট্রেন বদল করে রাত আটটায় রাশেদের জ্যামাইকার বাসায় পৌঁছে ক্যারি ব্যাগে কিছু কাপড় নিয়ে বের হয়ে পড়ি। তুহিনের বিলাশবহুল গাড়ি চড়ে রাত নয়টায় সৈয়দ নুরুল হুদা ও রুনি হুদার বাসায় পৌঁছে যাই। দাওয়াতে দেখা হয় আমার ১৯৮৮ সালের সিলেটের ঐতিহ্যবাহি মদন মোহন কলেজের বি,কম’র সহপাঠী ফুফাতো ভাই মিসবাহ উদ্দিন জাহাঙ্গীর’র সাথে, সে সস্ত্রীক এসেছিল, তাঁর বি,কম পাশের পরবর্তী ঘটনা নিয়ে হাস্যরস অনেক আলোচনা হলো।

ফুফাতো বোন রুনি হুদা খোকন আপার লং আইল্যান্ডের বাসায় নৈশভোজ শেষে আড্ডা আলোচনায় ভগ্নিপতি পোর্ট অথরিটি নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি’র অবসরপ্রাপ্ত ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার স্বল্পভাষী সৈয়দ নুরুল হুদা’র জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় সিলেট অঞ্চলের অনেক অতীত ইতিহাস জানাা গেল। তিনি ১৯৬৯ সালে সিলেট গভর্নমেন্ট হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও ১৯৭২ সালে এম,সি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা কৃতিত্বের সাথে পাশ করে আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা নেন, রুনি আপাও চট্টগ্রাম বিশ্বিবদ্যালয়ের অনার্স মাস্টার্স, দুজনন’ই এখন আমেরিকান সিনিয়র সিটিজেন, অবসরজীবন অতিবাহিত করছেন। খুবই মজাদার নৈশভোজে মেন্যু ছিল স্যামন ফিশ, মাটন, বিফ, নিজ বাগানের শিম, কাবাব, রোস্ট, ডাল, সালাদ আরো কত কি।

আড্ডা আলোচনা শেষে দুলাভাই সৈয়দ নুরুল হুদা ও সহপাঠী বন্ধু ও ফুফাতো ভাই মিসবাহ উদ্দিন জাহাঙ্গীর’কে আমার তৃতীয় বই ‘পঁচিশের ঢাকার ডায়েরি’ উপহার দেই। তাঁরা দু’জনও আমাকে উপহার দিয়েছেন, বন্ধু জাহাঙ্গীরের উপহার দেখা গেলেও ছোট্ট খামে থাকায় সৈয়দ সাহবেরটা দেখা যায়নি, অবশ্য দেখলেও বলা যাবেনা।

আমাদের প্রবাসী স্বজনরা দেশে বিদেশে দেখা হলেই উপহার দেন, কিন্তু তাঁদেরকে উপহার দেয়া যায়না। ছোট একটা অঘটন ঘটেছে, চশমা পাচ্ছি না। রাত দুইটায় আমি ব্রঙ্কসে চাচাতো ভাই তুহিনের (ছোট চাচা মরহুম একেএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর ছোট ছেলে ) পৌঁছে রাত্রিযাপন করি, দেখা হয় ছোট চাচি সুলতানা চৌধুরীর সাথে।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩৩
  • ১১:৪৪
  • ৩:৫৬
  • ৫:৩৮
  • ৬:৫১
  • ৫:৪৫