1. admin@amarsylhetnews.com : admin2020 :
  2. zoshim98962@gmaiil.com : আমার সিলেট ডেস্ক : আমার সিলেট ডেস্ক
  3. amarsylhetnews@gmail.com : আমার সিলেট নিউজ : আমার সিলেট নিউজ
  4. editor@amarsylhetnews.com : Amar SylhetNews : Amar SylhetNews

    মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
বাহুবলে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ ৩নং সাতকাপন ইউনিয়নে ১১ প্রার্থীর প্রচারণা ও মনোনয়ন দৌড় হবিগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার অঙ্গীকার আলেম ওলামাদের নবীগঞ্জের সদর ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হতে চান মাকাচ্ছিন মিয়া মহসিন বিয়ানীবাজারে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার দোয়ারাবাজারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার শেখ রাসেল দিবসে কর্মসূচি পালন হয়নি,কামারকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাহিরপুরে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে হবিগঞ্জে মানববন্ধন ও পথসভা হবিগঞ্জ শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাজিদুর রহমানের ইন্তেকাল

বাহুবলে বিতর্কিত কর্মচারীর  পক্ষে ইউএনও সাফাই!  

  • আপডেট সময় সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১
  • ৬৯২ বার পড়া হয়েছে
বাহুবল(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা পরিষদের সিএ কাম কম্পিউটার অপারেটর কনক দেব মিঠুর রাজকীয় বিয়ে এবং নববিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে বিমানযোগে কক্সবাজারে হানিমুনের সংবাদ প্রকাশের পর সর্বত্র আলোচনা -সমালোচনার ঝড় উঠেছে। একটি আর্থিক অনটনের নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান মিঠুর মাত্র ৯  বছরের চাকুরী জীবনে হঠাৎ রাজকীয় চলাফেরায় কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে বাহুবলে। যেন তিনি এখন আলাদিনের চেরাগ।
এদিকে তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা পরিষদের আলোচিত চতুর্থ শ্রেণির এ কর্মচারী নিজেকে তুলসীপাতা সাজাতে উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে যাবতীয় অপকর্ম ঢাকতে শুরু করেছেন অপতৎপরতা। এমনকি কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতার দারস্থ হয়ে করুনা পেতে আদাজল খেয়ে চালাচ্ছেন দৌড়ঝাঁপ। ইউএনও, এক ইউপি চেয়ারম্যান ও এক আওয়ামী লীগ নেতার কাধে বন্দুক রেখে জঞ্জাল সরাতে কৌশল নিয়েছেন কনক দেব মিঠু নামের উপজেলা পরিষদের এই কর্মচারী।
তাকে নিয়ে কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয় একটি অনলাইনে ” সিএ মিঠুর অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ নেই – ইউএনও” শিরোনামে প্রকাশিত কৌতুহলী লেখাটি লেখাটি পাঠ করে বিচলিত পাঠক মহল। অনেক পাঠকের মতে, উপজেলা পরিষদের বিতর্কীত একজন কর্মচারীর সাফাই গেয়ে প্রতিবাদ জানানো সরকারি চাকুরী বিধিমতে কতটুকু যুক্তি সঙ্গত। অনেকে বলছেন এটা ইউএনওর অতিউৎসাহী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছুই নয়।
এমনকি ইউএনওর বরাত দিয়ে প্রকাশিত লেখাটি প্রতিবেদন,  প্রতিবাদ না কিচ্ছা কাহিনী? লেখার সাথে বাস্তবতার মিল নেই বলেও বাহুবলের সচেতন মহল মনে করেন। উক্ত লেখায় যেভাবে সাফাই গাওয়া হয়েছে এতে মিঠু যেন মক্কার খেজুর। আর ইউএনওর বর্ণনা মতে বুঝা যায় তিনি গুণধর কর্মচারীর পরিবারের কোন সদস্য বা জন্ম থেকেই তিনি তাকে চিনেন!
অথচ তার পিতা দীর্ঘদিন পরিবহন শ্রমিক হিসাবে নিজেকে এলাকায় পরিচিত করে তুলেন। তার সন্তানই যে কনক দেব মিঠু এ সত্যকে বেমালুম চেপে গেলে ইউএনও। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদের বরাতে যে সাফাই প্রকাশ হয়েছে তাও হাস্যরসে ভরপুর। বলা হয়েছে ৮৬ থেকে ৯০ সালে নাকি এলাকায় কোন টিভি ছিল না। আর টিভি দেখার জন্য নাকি এলাকার লোকজন মিঠুদের বাড়িতে যেতেন। ঘরে টিভি থাকলেই যে বিত্তশালী এমনটা কল্পনা ছাড়া কিছুই নয়। তখন সময় অনেক ভ্যান চালক-রিক্সাচালকের ঘরেও বড় বড় রেডিও-টিভি  ছিল। কিন্তু অনেক সরকারি পদস্থ কর্মকর্তাদের ঘরেও তা ছিল না।
কনক দেব মিঠুর পক্ষে সাফাই সম্পর্কে জানতে চাইলে স্নানঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম কোন ধরনের বক্তব্যের কথা আপাদমস্তক অস্বীকার করে জানান, উপজেলা পরিষদের একজন কর্মচারী হিসাবে তার সাথে  সম্পর্ক রয়েছে। তবে  কোন লেখা বা মন্তব্যের সাথে তিনি জড়িত নন এবং এব্যাপারে তাকে কেউ কিছু বলেনি।
উপজেলা পরিষদের সিএ মিঠুকে
 নিয়ে কি ছিল সেই সংবাদেঃ
 ২০১২ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরীর আমলে নিয়োগ লাভ করেন কনক দেব মিঠু । দক্ষিণ বাহুবল গ্রামের কমলেষ দেব ও মাতা মনিরাণী দেবের পুত্র সে। বাবা সংসারের টানাপোড়েনে বাসের হেলাপার হিসেবে অতিকষ্টে সংসারের হাল ধরে রাখেন। পুত্রকে পড়ালেখা করান। এরই মাঝে আর্শিবাদপুষ্ট হন আব্দুল কাদির চৌধুরীর। মূলত: তার সুদৃষ্টিতেই নিয়োগপ্রাপ্ত হন কনক দেব মিঠু।
এই কর্মজীবনের ৯ বছরের মাথায় জমিজমা খরিদ করে আজ মিঠু কোটিপতি। গ্রামের বসতঘরে রয়েছে হাই প্রোফাইল এসি, বসতঘর সহ বাড়ির আঙ্গিনা পাকাকরণসহ মিলিয়ে দৃষ্টিনন্দন বাড়ি। চাকুরি রাজস্বভূক্ত না হলেও পরিষদ থেকে সর্বসাকুল্যে বেতন পান মাত্র ১৫ হাজার টাকা। মা গৃহিনী এবং বাবা এখন কর্মহীন অবস্থায় আছেন। পরবর্তী সময়ে সুচতুর কনক দেব মিঠু নিজের আখের গোছাতে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তির আশির্বাদপুষ্ট হয়ে যান।
ফলে তার হাতে মুঠোয় ধরা দেয় অর্থ নামক সোনার হরিণ। অর্থ বিত্ত অর্জন করে এবার বিয়ের পালা। গত ২৭/১১/২০২০ইং বিবাহ কার্য সম্পন্ন করেন। এর আগের দিন জমকালো গাঁয়েহলুদ অনুষ্ঠান করেন। রাজকীয় অবস্থায় বিবাহ করেন নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক বাজারের বাসিন্দা নারায়ণপালের কন্যা রিমা পালকে। শুরু হয়ে গেল দেব এবং পালের সংসার জীবন। নতুন বধুকে নিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সিলেট থেকে বিমানযোগে কক্সবাজারে হানিমুনে যান মিঠু দম্পতি।
সেখানে কয়েকদিন আনন্দ উপভোগের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তরে পিকনিক স্পটে ঘুরতে গিয়েছেন কয়েকবার। মিঠুর কাছে টাকা মুখ্য নয়, জীবনে আনন্দই মুখ্য। কিন্তু এত অর্থ বিত্তের মালিক কেমন করে হলেন মিঠু? এই প্রশ্নটিই সচেতন মানুষের মুখে মুখে চাউর। এর পর পরই অনুসন্ধান শুরু হলে বেরিয়ে আসে মিঠুর থলের বিড়াল। গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের এডিপি আওতাধীন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার “চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন কর্মকর্তাদের ম্যানেজমেন্ট উদ্বুদ্ধকরণ সভা”। পরিষদের এক কর্মচারী জানান- এই টাকা বই মেলার জন্য রাখা হয়েছিল। প্রতি বছরই এমন হয়।
কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি তো বই মেলা হলো না। তাহলে টাকা গেল কোথায়? যে সভা করা হয়েছে সভার পার্টিশিপেটদের সম্মানী বাবদ ২ হাজার টাকাও কেটে রাখা হয়েছে। একটি স্কীমের নামে অন্য স্কীম নেয়া যায়কি? নামকাওয়াস্তে সভা দেখিয়ে কি তাই করা হলো? চেয়ারম্যানগণ এবং কর্মকর্তাগণ ম্যানেজমেন্টে কি পরিমাণ উদ্বুদ্ধ হলেন? এসব প্রশ্নবোধক কাজেই প্রকল্প নেয়া হয়।
 অথচ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান- এই স্কীমের উদ্বুদ্ধকরণের সভা অনুষ্ঠান ও ২ হাজার টাকার সম্মানী জানেনই না বলে জানান। উল্লেখ্য যে, বইমেলাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন আর্থিক নির্ভর অনুষ্ঠানাদির পরিচালনার হাত থাকে মিঠুরই। এক্ষেত্রে স্বীকার করতেই হবে যে, মিঠুর রয়েছে কর্মকর্তাদের সুনজর অর্জনের বৃদ্ধিবৃত্তিক কৌশল। একটি বিশ্বাসযোগ তথ্যমতে- ইতিমধ্যে মিঠুর ব্যাপারে দুদুকসহ কয়েকটি সরকারি দপ্তরে অনুসন্ধানের জন্য তথ্য উপাত্ত প্রেরণ করা হয়েছে।
এ সংবাদ সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ খলিলুর রহমান কিছু বলতে না চাইলেও আগ বাড়িয়ে আসেন ইউএনও স্নিগ্ধা তালুকদার।তিনি সংবাদের তথ্য উপাত্ত সম্পর্কে কোন তদারকি না করে একতরফা সাফাই গেয়ে নিজের অবস্থানকে প্রশ্নবৃদ্ধ করেছেন, পরবর্তীতে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আসছে দীর্ঘদিন বাহুবলে কর্মরত থেকে কারা স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছেন এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সংবাদ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর