ছবি: এআই জেনারেটেড (প্রতীকী ছবি)

প্রতিনিধি: নাহিদ তালুকদার,

ক্ষমতার পালাবদল হয়, এলাকার নিয়ন্ত্রণ বদলায়, কিন্তু পাড়া-মহল্লায় ‘বড়ভাই’ সংস্কৃতির শেষ হয় না। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় টিকে থাকছে কিশোর গ্যাং। পুরোনো পৃষ্ঠপোষকের জায়গায় আসছে নতুন মুখ, কিন্তু অপরাধের ধরন আরও ভয়াবহ হচ্ছে।

ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল থেকে শুরু করে খুনের মতো ঘটনাতেও জড়াচ্ছে এসব গ্যাংয়ের সদস্যরা। প্রশ্ন উঠছে, এই গ্যাংগুলো আসলে নিয়ন্ত্রণ করে কারা? পুলিশ অভিযান চালালেও কেন ভাঙছে না এই নেটওয়ার্ক?

ঢাকা থেকে জেলা-উপজেলা সর্বত্র বিস্তার

শুধু ঢাকা নয়, বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য। পুলিশের তথ্য বলছে, নিয়মিত গ্রেফতারের পরও থামছে না তৎপরতা।

গত এক বছরে শুধু রাজধানীতেই গ্যাংয়ের সংখ্যা ১১৮ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫৯টি। অর্থাৎ এক বছরে নতুন ৪১টি গ্যাং যুক্ত হয়েছে। পুলিশের তালিকায় সারাদেশে এখন সক্রিয় গ্যাংয়ের সংখ্যা ৩৮৬টি।

পুলিশ সূত্র জানায়, এসব গ্যাংয়ের পেছনে শতাধিক পৃষ্ঠপোষকের নাম এসেছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সাবেক জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী, আবাসন ব্যবসায়ী এবং শীর্ষ সন্ত্রাসীরা।

বড়দের অপরাধের হাতিয়ার এখন কিশোররা

সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোর গ্যাং এখন আর বখে যাওয়া কয়েকজন কিশোরের বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় আধিপত্য ধরে রাখতে, অবৈধ টাকা আয় করতে এবং বড় অপরাধীদের সহযোগী হিসেবে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

কখনো প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, কখনো জমি-বাড়ি দখল, কখনো অফিস-আদালতে হামলা ও লুটপাটে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গেও এসব গ্যাংয়ের যোগাযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

নেপথ্যের কারিগররা থাকছে আড়ালে

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কিশোররা সামনে অপরাধ করলেও পেছনের নির্দেশদাতা ও টাকার জোগানদাতারা আড়ালে থেকে যান। তাই মাঠ পর্যায়ে সদস্যদের ধরলেও পুরো নেটওয়ার্ক ভাঙা যাচ্ছে না।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্ত্রের মহড়া

ফেসবুক, টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন নামে গ্যাংয়ের সদস্যদের অস্ত্র হাতে মহড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে। চাপাতি, ছুরি, সামুরাই নিয়ে দলবদ্ধভাবে চলাচলের ভিডিও দেখিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে তারা।

৩৮৬ গ্যাংয়ের ৮০ ভাগই তরুণ

পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, সারাদেশের ৩৮৬টি গ্যাংয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্যের বয়স ১৬ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। নাম কিশোর গ্যাং হলেও এতে প্রাপ্তবয়স্ক তরুণদের সংখ্যাও অনেক।

এর মধ্যে ঢাকায় ১৫৯টি, চট্টগ্রামে ৯৮টি, রাজশাহীতে ১৩টি, সিলেটে ১৫টি এবং গাজীপুরে ১৩টি গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ১৫৯টি গ্যাংয়ে সদস্য সংখ্যা তিন হাজারের বেশি।

আগে এসব গ্যাং মহল্লায় মারামারি করলেও এখন মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও হত্যার মতো বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

?

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *