নিজাম উদ্দীন সালেহ : সিলেটের ৪টি ফুটওভার ব্রিজ যেন অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং জনসাধারণের সাড়ে ৯ কোটি টাকা পানিতে ফেলে দেওয়ার এক জাজ্বল্যমান দলিল। বিগত সরকারের আমলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কোনো প্রকার বাস্তব উপযোগিতা যাচাই না করেই স্রেফ বাজেট গিলে খাওয়ার মহোৎসবে মেতে এই অকাজের স্থাপনাগুলো তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, বন্দরবাজারের কোর্ট পয়েন্ট ফুটওভার ব্রিজ ২০১৬ সালে নির্মিত হয়। এই ব্রিজের ব্যয় ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এটা এখন বেকার, টোকাই আর মাদকসেবীদের আখড়া। কোন পথচারীই এটা ব্যবহার করেন না।


এমসি কলেজ গেট ফুটওভার ব্রিজ (টিলাগড় পয়েন্ট)২০২১ সালে নির্মিত। এই ব্রিজের ব্যয় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। শিক্ষার্থীরা নিচ দিয়েই পার হন, আর ব্রিজের ওপর বসে মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডা।


হুমায়ুন রশীদ চত্বর ফুটওভার ব্রিজ (দক্ষিণ সুরমা ২০২২ সালে নির্মিত হয়। এই ব্রিজের খরচ ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এটি এখন মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যানার-ফেস্টুন ঝোলানোর স্ট্যান্ড এবং রাতে নেশাখোরদের আখড়া।


শাবিপ্রবি প্রধান ফটক ফুটওভার ব্রিজ (সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক): ২০২৩ সালে নির্মিত সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্রিজ। এই ব্রিজের বাজেট ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এটি এখন টোকাইদের ঘুমানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে।


সব মিলিয়ে ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজগুলো আজ সাধারণ পথচারীদের পারাপারের বদলে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী ও হকারদের অভয়ারণ্য। চরম অবৈজ্ঞানিক ডিজাইনের কারণে একজন সুস্থ মানুষ তো দূর, অসুস্থ বা বয়োবৃদ্ধদের পক্ষে এই ব্রিজে ওঠা একপ্রকার অসম্ভব। ফলে কোটি টাকার ব্রিজগুলো যেনো উপরে দাঁড়িয়ে সিসিকের কর্তাদের পরিকল্পনাহীনতা ও লুটপাটের সংস্কৃতিকে উপহাস করছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *